যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড এবং আটক ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে এবং আটক কিংবা গ্রেপ্তার কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রেখেছে ইরান। আমরা নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্যের নিশ্চয়তা পেয়েছি।’
এর আগে মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ওই বার্তায় তিনি ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘ইরানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এসব নির্বোধ হত্যা যতদিন না বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমি বৈঠক করব না। (ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য) সহযোগিতা আসছে। ইরানকে আবার মহান করে তুলুন (মিগা-মেইক ইরান গ্রেট এগেইন)।’
একই দিন পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছেন—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে নিহতের সংখ্যা যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, সে বিষয়ে তিনি ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত বলে মন্তব্য করেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন বাড়তি নজরদারি চলছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।