একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬-২০৬০ সময়কালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত খসড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে খসড়া মহাপরিকল্পনাকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন,
‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রশ্ন থাকবে, কেন এই মহাপরিকল্পনার মিশন ও ভিশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির রিফ্লেকশন নেই? সোলার নাম ব্যবহার করে অন্যান্য কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানিকে সোলার না দিয়ে কেন যুক্ত করা হয়েছে? এ খসড়ায় এলএনজি অবকাঠামোর বিপুল পরিকল্পনা উঠে এসেছে। অথচ যেখানে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত একটা বিপুল দেনার মধ্যে রয়েছে। পরিকল্পনাটা হওয়া উচিত ছিল দেনা থেকে কিভাবে উত্তরণটা করা যায়। আমরা দেখতে পাচ্ছি সমস্যাগুলোর সমাধান না করে সমস্যাগুলো জিইয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মহাপরিকল্পনার যে খসড়া, তা ত্রুটিপূর্ণ। যা অংশগ্রহণমূলক নয় এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ এখানে রক্ষা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এ পরিকল্পনা কার্বন নিঃসরণ রোধ প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করবে এবং দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণ করবে ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এই মহাপরিকল্পনার কার্যক্রম স্থগিত করা।’
একই সঙ্গে নতুন নির্বাচিত সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘নতুন নির্বাচিত সরকারের একটি নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তা যেন গবেষণাধর্মী, অংশগ্রহণমূলক ও দেশের সকল পক্ষকে সঙ্গে রেখে একটি সাযুজ্যপূর্ণ পরিকল্পনা তৈরি করা হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মেহেদী হাসান শামীম, আবরার আহমেদ, আতিকুজ্জামান সাজিদ, সাবিহা শারমিনসহ অন্যান্য গবেষকরা।