গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) বিক্রির উৎসব চলছে। অবাধে গভীর গর্ত করে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমি ডোবায় পরিণত হচ্ছে। এতে যেমন ফসলি জমির আবাদ পড়েছে হুমকির মুখে, তেমনি হ্রাস পাচ্ছে ফসলি জমি।
জানা গেছে, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের দেবপুর, বাসুদেবপুর, বাহাদুরপুর, হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা, যাদুর বাজারসহ একাধিক গ্রামে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসায়ীরা আগে থেকে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভূমি অফিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন এসব অপকর্ম। তাই মিলছে না কোনো প্রতিকার।
তাছাড়া মাটিবাহী মাহিন্দ্র গাড়ি ও ট্রাক্টর চলাচলের জন্য জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। মাটি ভর্তি এসব ট্রাক্টর-ট্রলির ভারী চাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কাঁচা-পাকা সড়ক।
উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের ট্রাক্টর মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, জমিতে কৃষি আবাদ হয় না তাই জমির মাটি কেটে সমান করছি। জমির মাটি ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ইট ভাটার মালিক আফসার আলী কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা দালালের মাধ্যমে মাটি ক্রয় করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, ফসলি জমির প্রাণ বলা হয় টপ সয়েল। এই জমির প্রথম ৮ থেকে ১০ ইঞ্চিকে বলা হয় টপ সয়েল, এখানে থাকে মাটির জৈব পদার্থ। টপ সয়েল কর্তন করা হলে ওই জমি উর্বরতা শক্তি হারায়। শুধু তাই নয় দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং ফসল উৎপাদন কমে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি কিছু লোকজন কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছে। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।