ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ বিএনপি নেতাসহ আহত ১০

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পরিবহন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিএনপির তিন নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার নবীনবরণ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহজাদপুর থানা-পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরও রাতভর উত্তেজনা চলে দুই পক্ষের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর আগে শাহজাদপুরের পরিবহন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও হাসিব পরিবহনের স্বত্বাধিকারী হারুনর রশীদ। সরকার পতনের পর সব পরিবহন ব্যবসায়ী ন্যায্য অধিকার চাইলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে হারুনর রশীদ আগের মতোই নিজের অনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছেন। মোটর মালিকদের কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি নতুন করে শাহজাদপুর থেকে যশোরে নিজের একটি গাড়ি চালু করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মোটর মালিক সমিতি এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুনর রশীদ ও তার সহযোগীরা নবীনবরণ পরিবহনের কাউন্টারে হামলা চালান। এ সময় শাহজাদপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুস সালাম, একই ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন, পৌর যুবদলের সদস্য মো. মিঠুন, মো. মোয়াল্লেমসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাসিব পরিবহনের স্বত্বাধিকারী হারুনর রশীদ বলেন, ‘নবীনবরণ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী হাজি আইয়ুব আলী ও মোয়াল্লেম যশোর রুটে আমার গাড়ি চালু করতে ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা না দিয়ে গাড়ি চালু করায় তারা আমার লোকজনের ওপর চড়াও হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’ শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক মো. মাহবুব বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।