অফ স্টাম্পের বাইরের বল, সামান্য পা বাড়ানো—তারপর শক্ত টান। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া সেই ছক্কাতেই ম্যাচের সব হিসাব চুকিয়ে দিলেন শেখ মেহেদী হাসান। ইহসানউল্লাহর বলটা বাউন্ডারির বাইরে পড়তেই উল্লাসে মেতে ওঠে চট্টগ্রাম শিবির। ১৮ বল হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়ে যায় জয়।
মিরপুরে বিপিএল ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের দেওয়া ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এই হারের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপিএল লিগ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো নোয়াখালীর। যদিও টুর্নামেন্টে তাদের আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে।
তবে রান তাড়ার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না চট্টগ্রামের জন্য। মাত্র ২৯ রানেই চার ব্যাটার সাজঘরে ফিরে গেলে ম্যাচ ঘুরে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। সেই চাপের মুহূর্তে হাল ধরেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান। প্রথমে হাসান নেওয়াজের সঙ্গে, পরে আসিফ আলীর সঙ্গে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেন তিনি।
পঞ্চম উইকেটে মেহেদী–নেওয়াজ জুটিতে আসে ৩১ বলে ৪০ রান। নেওয়াজ ফিরে গেলেও থামেননি মেহেদী। ষষ্ঠ উইকেটে আসিফ আলীর সঙ্গে গড়ে তোলেন অবিচ্ছিন্ন ৫৯ রানের জুটি, যা আসে ৪৫ বলে। এই জুটিতেই কার্যত ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় নোয়াখালীর।
জয়ের ছক্কা হাঁকানো মেহেদী মাঠ ছাড়েন ৩৬ বলে ৪৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে। অন্য প্রান্তে আসিফ আলী অপরাজিত থাকেন ৩০ বলে ৩৬ রানে।
এই জয়ে আট ম্যাচে ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রাজশাহী ওয়ারিয়রস। আর নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৯ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় দলের মধ্যে তলানিতে অবস্থান করছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৮.৫ ওভারে ১২৬ ((ইসাখিল ২৫, জাকের ২৩; শরীফুল ৫/৯, মেহেদী ৩/১২)
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭ ওভারে ১২৮/৫ ((মেহেদী ৪৯*, আসিফ ৩৬*, নাঈম ১৮; ইহসানউল্লাহ ২/২৩, হাসান ১/১৭)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শরিফুল ইসলাম