যানজটে অতিষ্ঠ পেকুয়া-কুতুবদিয়ার চার লাখ মানুষ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাবমেরিন নৌ-ঘাটি সড়কের পেকুয়া বাজার এলাকায় ভয়াবহ যানজটের কারণে পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার অন্তত চার লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে বলে অভিযোগ যাতায়াতকারীদের।

দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। অতিরিক্ত যানজটের কারণে পেকুয়া বাজার এলাকায় পায়ে হেঁটে চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

যানজট নিরসনে বাজার এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও তা কার্যত কোনো কাজে আসছে না। অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। পেকুয়া উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় সাতটি ইউনিয়নের পাশাপাশি কুতুবদিয়া উপজেলার মানুষের চলাচলের অন্যতম নির্ভরশীল পথ এই বাজার সড়ক। ফলে যানজট পুরো অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, যানজট নিরসনে একসময় সড়কে ডিভাইডার স্থাপন করা হলেও সময়ের ব্যবধানে তা ভেঙে ও সরিয়ে ফেলার কারণে শৃঙ্খলা আরও অবনতির দিকে গেছে। এতে করে জরুরি সেবার যানবাহন— অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পেকুয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘অসহনীয় যানজটে পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, পেকুয়া বাজারের সড়কের দুই পাশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও সিএনজি এলোমেলোভাবে পার্কিং করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক দখল করে শতাধিক ভ্যান বসিয়ে ফল বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট। ফুটপাত দখল করে স্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে, ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। বেপরোয়া পার্কিংয়ের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন আটকে গিয়ে যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ ও ছয়জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। বাজারের বিভিন্ন স্থানে ডিভাইডার সরিয়ে অবাধে পার্কিং করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ— কর্তৃপক্ষ দেখেও যেন না দেখার ভান করছে।

বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই বাজার থেকে প্রতিবছর সরকার দুই কোটির বেশি টাকা রাজস্ব আদায় করে। অথচ আমরা কোনো সুফল পাচ্ছি না। এই দুর্ভোগ থেকে আমরা মুক্তি চাই।’

উল্লেখ্য, জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি পেকুয়ায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে সেই তৎপরতা আর দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে পেকুয়ায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) মাহবুব জানান, ‘পেকুয়ায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দুইজন সদস্য। জনবল সংকটের কারণে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মাহবুব বলেন, ‘ইতোমধ্যে সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাজার এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ে বিধিনিষেধ আরোপ, সড়ক দখলকারী ফল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্রাফিককে আরও সক্রিয় করা এবং ফুটপাত অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয়রা দ্রুত এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পেকুয়া বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।