সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হামলায় একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার মধ্যরাতে এ ঘটনার পর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার কৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং ছাতক উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের জাবেদ মিয়া (৩০)।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার মধ্যরাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার ঘটনার পর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করছেন। তবে হাসপাতালের জরুরি সেবা সচল রাখতে মিড-লেভেল চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। এসব দাবি পূরণ হলে আমরা কাজে ফিরে যেতে প্রস্তুত।’
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।