ববিতে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিকসহ ১৫ শিক্ষার্থী আহত

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলায় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নভোথিয়েটারের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এশিয়া পোস্টের ক্যাম্পাস সাংবাদিক আবু উবাইদা, আব্দুল কাদের জীবনসহ একই বিভাগের ৮ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া বাংলা, লোকপ্রশাসন, সিএসই, হিসাববিজ্ঞান ও ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পেজে গণিত বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরফান সিফাতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ পায়— এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে কথা বলার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু উবাইদা এবং সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। এরপরই সিফাতের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

খবর পেয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের উদ্ধার করতে গেলে, তাদেরকেও আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ মারধর করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকপ্রশাসন, কোস্টাল এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, রড, পাইপ ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রায় ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী এই হামলায় অংশ নেয়।

জানা গেছে, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তসহ একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হামলার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। সংবাদ সংগ্রহের সময় 'আজকালের কণ্ঠ'-এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং 'দৈনিক আমার দেশ'-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ রানার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।

বিভিন্ন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, হামলায় নেতৃত্বে ছিলেন  গণিত বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের আরফান সিফাত ও একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসান। এছাড়াও একই বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমতি, রিয়াজ ও নাইমসহ আরও ৪০–৫০ জন এই নৃশংস হামলায় অংশ নেন।

হামলায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের অমিও মন্ডল, রিপন মন্ডল, নাহিদ  ইসলাম, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল কাদের ইমন। লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের তানজিল, সিএসই বিভাগের সিফাত, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের  বিভাগের মারুফ, ইংরেজি বিভাগের আহনাফ আহত হয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি আহত সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবন বলেন,‘আমার ওপর ২০–৩০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করেছে। আমি এখন হাসপাতালে ভর্তি। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এ ঘটনায় গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী আরফান সিফাত ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে গনিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন,‘আমার কাছে এখনো লিখিত আসেনি। গনিত বিভাগে ও গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আজকে এ বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিসে বসবো। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা এবং সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমি উপস্থিত হই। আমাদের বিভাগের ৮–৯ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন,‘আমরা উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আহ্বান করেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত