গাজার শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন রূপরেখা প্রকাশ

গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি তাদের মিশন স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছে। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজায় মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধার এবং শান্তিনির্ভর সমাজ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা ম্যানেজমেন্ট (এনসিএজিসি)-এর সাধারণ কমিশনার আলী শাআথ বলেন, এই সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি 'বোর্ড অব পিস'-এর নির্দেশনায় কাজ করবে, যার চেয়ারম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের পর গাজার অবকাঠামো ও সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠনই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিশ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত এই কমিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন আট দুই শূন্য তিন-এর অনুমোদন পেয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এনসিএজিসি গাজার দৈনন্দিন স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শাসনব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে বোর্ড অব পিস এবং একটি পৃথক গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড।

তবে এই কমিটির সামনে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ যুদ্ধের পর গাজা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে, এখনো বড় অংশ ইসরায়েলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এই কমিটির প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, তদারকি কাঠামোয় প্রো-ইসরায়েলি ব্যক্তিদের প্রভাব বেশি, আর ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম।

শাআথ জানান, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলাই হবে কমিটির অগ্রাধিকার। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের আরোপিত সহায়তা প্রবেশে কড়াকড়ি এবং চলমান হামলা পুনর্গঠন কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। অক্টোবর দুই হাজার তেইশ থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা একাত্তর হাজারের বেশি বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে আশঙ্কা রয়েছে, এনসিএজিসির এই টেকনোক্র্যাটিক পদ্ধতি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসানের মতো মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোকে পাশ কাটিয়ে কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবে। এসব উদ্বেগের জবাবে শাআথ বলেন, শান্তির পথ ধরেই ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই কমিটির লক্ষ্য।