মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় একের পর এক পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে উপজেলা জুড়ে মোট ৬১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। আর ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি রাতে উপজেলার ধল্লা এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই এক চোরের মৃত্যু হয়।
ট্রান্সফরমার চুরির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সেচনির্ভর কৃষকরা পড়ছেন চরম সংকটে। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনে অর্ধেক ভর্তুকি দেওয়া হয়। তবে সেচ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পুনঃস্থাপনের পুরো অর্থ নিজেদেরই বহন করতে হয়, যা তাদের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামের সেচগ্রাহক মো. মাসুম মিয়া জানান, তার চুরি হওয়া ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার টাকা। এই টাকা পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
ভুক্তভোগী অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত না থাকলে এভাবে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া সম্ভব নয়। তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছেন সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা বাইরের কোনো সংঘবদ্ধ চক্র এই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, তবে পল্লী বিদ্যুতের কোনো কর্মচারীর পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, তার দীর্ঘ চাকরিজীবনে এই এলাকার মতো অন্য কোথাও এত বেশি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা দেখেননি। চুরি রোধে ধল্লা ও জামির্তা এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম দেবব্রত ভৌমিক জানান, গত বছরে ৬১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হবে।
অন্যদিকে থানা পুলিশ সূত্রে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মাত্র দুটি মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগদান করেছেন। তার সময়ে যে কয়টি অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শীতকালে ঘন কুয়াশার সুযোগে চোরেরা সক্রিয় থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং কুয়াশা কমলে চুরির ঘটনাও কমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।