মুরাদনগরে স্ট্রিট ফুডের ব্যবসা, কর্মসংস্থান হচ্ছে যুবকদের

দিন দিন জমে উঠছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার স্ট্রিট ফুডের ব্যবসা। বিকেল নামলেই উপজেলা সদরের থানা রোড ও মুরাদনগর ডিআর সরকারি হাই স্কুল মাঠসংলগ্ন ফুটপাতে সারি সারি স্ট্রিট ফুডের দোকান বসে। কাঁচঘেরা ছোট ছোট এসব দোকানে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে বাহারি সব খাবার। রেস্টুরেন্টের চেয়ে অনেক কম দামে চোখের সামনে খাবার তৈরি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব দোকানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের ভিড় লেগেই আছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই নিয়মিত ক্রেতা। কম দামে পছন্দের খাবার পাওয়ায় দিন দিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে আবার কেউ খাবারের অপেক্ষায় সময় কাটাচ্ছেন।

ফুটপাতের এসব স্ট্রিট ফুডের দোকানে ফুচকা, চটপটি ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বার্গার, মোমো, পিৎজা, মিট বক্স, পাস্তা, স্যুপ, চাউমিন, চিকেন ফ্রাই, বিরিয়ানি, বিভিন্ন স্বাদের কেক ও ঝাড় কেক। শীত মৌসুমে ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠাসহ নানা ধরনের শীতের পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি ভুট্টা, ঝালমুড়ি, পানিপুরি, রোল, চপ ও বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাবারও বিক্রি হচ্ছে দারুণভাবে।

বন্ধুদের সঙ্গে খেতে আসা সাফায়াত ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসি। মোমো কর্ণারের মোমো খুব মজাদার, আর দামও আমাদের সাধ্যের মধ্যে।’

বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে ‘দ্য কিচেন কর্নার’-এর দায়িত্বে থাকা সিয়াম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে বেচাকেনা শুরু হয়। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। শীত বেশি হওয়ায় বিক্রি কিছুটা কম, তবে আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলছে।’

পরিবার নিয়ে স্ট্রিট ফুড খেতে আসা ব্যাংকার আল আমিন বলেন, ‘অফিসের ব্যস্ততায় বাচ্চাদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করা হয় না। তাই মাঝে মধ্যে অফিস শেষে সন্ধ্যায় এখানে আসি। কম খরচে মোটামুটি ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়।’

স্ট্রিট ফুড ব্যবসায়ী কাজী সৌরভ জানান, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত পর্যন্ত তার ভাসমান দোকানে বেচাকেনা চলে। দুইজন স্টাফ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো আয় হচ্ছে বলে জানান।

বিরিয়ানি বিক্রেতা তারেক রহমান বলেন, ‘শীতে গরম গরম বিরিয়ানি খেতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। মাগরিবের পর থেকেই বিক্রি শুরু হয়। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০-৫০০ জনের খাবার বিক্রি করি। ৫০ ও ১০০ টাকা দামে প্লেট বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে ভালোই আয় থাকে।’

স্ট্রিট ফুড খেতে আসা শিক্ষক সফিক সরকার বলেন, ‘শহরের পাশাপাশি মফস্বল এলাকাতেও স্ট্রিট ফুডের চাহিদা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এসব খাবার বেশি জনপ্রিয়। এতে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও হচ্ছে।’

যদিও স্ট্রিট ফুডের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে, তবুও সাশ্রয়ী দাম ও সহজলভ্যতার কারণে মুরাদনগরে এসব ভাসমান স্ট্রিট ফুডের দোকানেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা।