শাকসু ইস্যুতে উত্তপ্ত শাবিপ্রবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের হাইকোর্ট আদেশের বিরুদ্ধে রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন জরুরি কার্যতালিকা থেকে সরিয়ে নিয়মিত কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে আদালত। এ পরিস্থিতিতে শাকসু নির্বাচন দাবিতে আজও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১১টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচনের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করা আটজন কমিশনারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন হলের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় শাকসু নির্বাচন অবিলম্বে আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘দালাল দালাল’ স্লোগান দেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ভিডিওটি ‘সকল বেয়াদবির বিচার একদিন হতে হবে’ ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করা হয় মোহাম্মদ মনজুরুল হায়দার নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে। জানা গেছে, তিনি শাকসু নির্বাচনের সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এবং নির্বাচনের আগের দিন বিএনপিপন্থী আরও সাতজন কমিশনারের সঙ্গে পদত্যাগ করেন।

এদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে জরুরি কার্যতালিকায় আবেদন করলেও আদালত তা নিয়মিত কার্যতালিকায় স্থানান্তর করে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জরুরি কার্যতালিকায় আবেদন করা হলেও আদালত সেটি নিয়মিত কার্যতালিকায় নিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিনই এ আবেদন শুনানির জন্য উঠবে।’

উপাচার্য আরও জানান, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হলেও তার সচিবকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সচিব প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি নিজেও চাই শাকসু নির্বাচন হোক এবং শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করুক।’

এর আগে গতকাল সোমবার হাইকোর্ট শাকসু নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করলে দিনভর আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা এবং উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারকে প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে শাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির সাংবাদিকদের বলেন, শাকসু নির্বাচন বন্ধ করাই ভোটাধিকার হরণের প্রথম ধাপ। তিনি দাবি করেন, মামলার পক্ষে শিক্ষার্থীদের গ্রাউন্ড শক্তিশালী এবং আবেদন গ্রহণ করা হলে রায় তাদের পক্ষেই আসবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী আইনজীবীদের মাধ্যমে বিষয়টি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে কার্যত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাড়া আর কেউ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের মাধ্যমেই স্বৈরাচার তৈরি হয়। তারা জানান, তারা আর নতুন কোনো ‘দানব’ দেখতে চান না এবং শাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।