নিজ দেশে অগ্নিসংযোগ করা হলো পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একি ব্রোঞ্জ ভাষ্কর্যে! পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে এই ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলেই আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে। 'সিআর৭ মিউজিয়ামের' সামনে থাকা এই ভাস্কর্যে আগুন ধরিয়ে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় এক তরুণ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রোনালদোর নিজ দ্বীপের রাজধানী ফুনশালে অবস্থিত জাদুঘরের সামনে স্থাপিত এই ভাস্কর্যটি রোনালদো ২০১৪ সালে সপরিবারে এসে উদ্বোধন করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, এলোমেলো চেহারার ওই যুবক প্রথমে ভাস্কর্যর গায়ে দাহ্য তরল ঢেলে দেয়। এরপর লাইটার জ্বালিয়ে আগুন ধরায়। আগুন জ্বলতে শুরু করলে সে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে উচ্চস্বরে বাজানো র্যাপ সংগীতের তালে অদ্ভুত নাচতে থাকে।
একপর্যায়ে সেই যুবকের পরনের কাপড়েও আগুন লাগার উপক্রম হয়। পুরো ঘটনার ভিডিওটি সে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে, যেখানে তার হাজারখানেক অনুসারী আছে। সেই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সে নিজেকে ‘মানুষ, ফ্রিস্টাইলার ও স্থানীয় বাসিন্দা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। আর রোনালদোর ভাস্কর্য পোড়ানোর ভিডিওর সঙ্গে সে একটি রহস্যজনক বার্তাও দিয়েছে—‘এটাই ঈশ্বরের শেষ সতর্কবার্তা।’
ভাস্কর্যটি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শুরুতে আগুন পুরো ভাস্কর্যে ছড়িয়ে পড়লেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিভে যায়। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দ্বীপের অন্য স্থান থেকে সরিয়ে এই ভাস্কর্যটি এখানে স্থাপন করা হয়েছিল। এর আগে একবার মেসি-সমর্থকদের দ্বারা ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল এটি। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোনালদোর অসংখ্য ভক্ত।
একজন লিখেছেন, ‘এটা কি ভালো কাজ মনে হয়? শুধু লাইক পাওয়ার জন্য এমন অপ্রয়োজনীয় কাজ।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘তোমার শক্তি ও স্টাইল আমার ভালো লাগত, কিন্তু এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছ। ঈশ্বরের নাম এমন কাজে ব্যবহার করা ঠিক হয়নি।’ আরও একজন ক্ষুব্ধ হয়ে লেখেন, ‘ওর মানসিক চিকিৎসা দরকার।’ ভিডিওর শেষ অংশে ওই যুবক ভাস্কর্যর দিকে অশালীন ভঙ্গি ও মধ্যমা প্রদর্শন করায় ভক্তরা আরও চটে গেছেন।
ফুনশালের পিএসপি (পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ) জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের এক সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানায়, ‘এই ব্যক্তি আগেও এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’ সিআর৭ মিউজিয়ামের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিষয়টি এখন পুলিশের হাতে রয়েছে। এ মুহূর্তে আমাদের আর কিছু বলার নেই।’