গোপালগঞ্জে জমে উঠেছে সরস্বতী পূজার প্রস্তুতি

বিদ্যার দেবী সরস্বতী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জ্ঞান, সংগীত ও শিল্পকলার আরাধ্য প্রতীক। পঞ্জিকা অনুযায়ী মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে, আগামী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সারা দেশের মতো গোপালগঞ্জেও অনুষ্ঠিত হবে সরস্বতী পূজা। এ পূজাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে সরস্বতী প্রতিমার হাট। প্রতিমা কেনাবেচায় মুখর হয়ে উঠেছে হাটগুলো, আর সেই সঙ্গে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

শুধু ঘরোয়া আয়োজনেই নয়, সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। দেবীর পায়ে অঞ্জলি দিয়ে বহু শিশুর শিক্ষাজীবনের প্রথম অধ্যায় শুরু হবে এ দিনেই। ফলে সরস্বতী পূজার প্রধান অনুষঙ্গ প্রতিমাকে ঘিরে বেড়েছে চাহিদা। 

জেলা শহরের গোহাট সার্বজনীন কালীবাড়ি, সদর উপজেলার সাতপাড়, বৌলতলী, কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ, ভাঙ্গারহাট, ঘাঘর বাজারসহ জেলার শতাধিক স্থানে বসেছে প্রতিমার হাট। এসব হাটে আনা প্রতিমাগুলো আকার ও নকশাভেদে বিক্রি হচ্ছে আড়াইশো টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

প্রতিমার দামের বিষয়ে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। হাটে প্রতিমা কিনতে আসা ক্রেতা বাদল সাহা বলেন, “এবার কিছু প্রতিমার দাম একটু বেশি মনে হলেও কাজের মান ভালো। বাচ্চাদের পড়াশোনার শুরুটা ভালো হোক এই আশায় সরস্বতী পূজা করি, তাই সাধ্যের মধ্যে ভালো একটি প্রতিমাই কিনেছি।”

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রতিমা নির্মাতারা (পাল সম্প্রদায়) নিজেদের তৈরি প্রতিমা নিয়ে এসব হাটে বসেছেন। নানা বয়সের মানুষ ভিড় করছেন পছন্দের প্রতিমা কিনতে। 

প্রতিমা কারিগর ও বিক্রেতা রমেন চন্দ্র পাল বলেন, “মাটি, রং, খড়সহ সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার প্রতিমা বানাতে খরচ বেশি পড়েছে। তাই আগের তুলনায় দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তারপরও ভালো বিক্রি হচ্ছে, আশা করছি এবছর ক্ষতি হবে না।” 

প্রতিমা বিক্রেতারা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা বেচা-কেনা চলবে। এবছর বেশি প্রতিমা বিক্রি করে কিছুটা লাভের আশাও করছেন তারা।
খাটরা সার্বজনীন কালী বাড়ীর সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিমার হাট বসায় একদিকে যেমন ক্রেতারা সহজেই প্রতিমা কিনতে পারছেন, অন্যদিকে প্রতিমা বিক্রেতাদের জীবিকা নির্বাহও সহজ হচ্ছে। এতে পূজার আয়োজন আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। রীতি অনুযায়ী বসন্ত পঞ্চমীতে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজার পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, কলম ও বাদ্যযন্ত্রের পূজাও করা হয়। এ পূজার মধ্য দিয়েই শীত ঋতুর অবসান এবং বসন্ত ঋতুর আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির বুকে।

সরস্বতী পূজাকে ঘিরে প্রতিমার হাট, মানুষের ব্যস্ততা আর আনন্দমুখর পরিবেশ সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জে এখন শুধুই দেবী সরস্বতীর আরাধনার অপেক্ষা।