যত দোষ নন্দ ঘোষ

ক্ষমতাহীন দুর্বলের ওপর দোষ চাপানোর স্বভাবটি সুপ্রাচীন। অতি স্নেহবৎসল পিতা নন্দ ঘোষ পুত্র শ্রীকৃষ্ণের সব আচার আচরণ আবদার ও স্বভাবের প্রতি ছিলেন অতিশয় সহিষ্ণু, দরাজ দিল। ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ প্রবাদটি সে সুবাদে মুখরোচক হয়ে চালু রয়েছে। সমাজ সংসার রাজনীতি কূটনীতি-অর্থনীতি, সবখানে নন্দ ঘোষরা এখনো চাপানো দোষে অভিযুক্ত, নানান অনুযোগ অপবাদ অপব্যাখ্যার শিকার। যিনি মাথায় থাকেন বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, তিনি যাই করেন অন্যরা তাদের ব্যর্থতা ওরফে অপারগতা ওরফে অকর্মের দায়দায়িত্ব ওই মাথার ওপর চাপিয়ে দিয়ে তারা শুধু নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে বা গা বাঁচানোয় ক্ষ্যান্ত হন না, নন্দ ঘোষকে বিব্রত করে নিজেরা

তৃপ্তিও পেয়ে থাকেন। কদাচিৎ তৃপ্তির হাসি হাসেন। ‘আমার বলার কিছু ছিল না’, এ জাতীয় কথায় সুর ভেজে পাশ কাটানোর জোয়ার ব্যক্তি, সংসার, সমাজ ও দেশে যখন বাড়ে তখন গোল্লায় যাওয়াটা তত ত্বরিৎ বটে। দিনের শুরুতে সবাই সুকান্তর মতো জঞ্জাল জাতীয় প্রত্যয় ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে যারা কম যান না, তারাই সন্ধ্যায় দেখেন জঞ্জাল সরানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তখন ‘আমার হাতে ছিল না বিধাতা ভার’ জাতীয় দোষ চাপিয়ে খালাস হওয়ার প্রথা এখানে-সেখানে সর্বত্র চলত, এখনো চলে এবং চলবে। এ সত্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে উধাও হয়ে যায় যে, সংসার সমষ্টি যখন কয়েকজনের সেখানে মাথায় যিনি থাকেন, তিনি একা সবকিছু করতে পারেন না। পারতে গেলে অন্যরা অখুশি হয়। এমন কি নিজের ভাগে স্বৈরাচারের অপবাদ জুটে যেতে পারে। নেতাকে শ্যাম রাখি না কূল রাখি, এ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দিয়ে সুচতুরেরা ডান-বাম, উত্তম-অধম , উঁচু-নিচু, এভাবে শ্রেণিবিন্যাসিত হয়ে দায় বা দোষ থেকে নিষ্কৃতি লাভে ধন্য হতে চায়। তারা কখনো-সখনো নিজেদের মজলুম সাজিয়ে অন্যের করুণা লাভও করতে পারে। আর সেই অবসরে, দশ চক্রে ভগবান ভূত হয়ে স্বনির্মিত স্বৈরাচার হিসেবে আঁস্তাকুড়ে যান।

আধুনিক যুগে নন্দ ঘোষদের ওপর দোষ চাপানো চমৎকার বৃত্তান্ত Why Nations Fail : The Origins of Power, Prosperity, and Poverty গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। এটি লিখেছেন, তুর্কি-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ ড্যারন অ্যাসেমোগলু এবং ব্রিটিশ-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ জেমস এ. রবিনসন। ২০২৪ সালে তারা সাইমন জনসনের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমৃদ্ধির তুলনামূলক গবেষণায় অবদানের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার লাভ করেন। এই বইয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহার করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কেন বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্নভাবে উন্নয়ন লাভ করে, কেন কিছু দেশ ক্ষমতা ও সমৃদ্ধি সঞ্চয়ে সফল হয় আর কিছু দেশ ব্যর্থ হয়। লেখকরা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বহু ঐতিহাসিক উদাহরণ ও কেস স্টাডি উপস্থাপন করেছেন। বইটি ড্যারন অ্যাসেমোগলুর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-তত্ত্ব সংক্রান্ত গবেষণা এবং জেমস রবিনসনের আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে গবেষণার সমন্বিত ফল। এর সঙ্গে অন্যান্য বহু গবেষকের কাজও যুক্ত হয়েছে। বইটিতে বিলুপ্ত ও আধুনিক উভয় ধরনের বহু দেশের ইতিহাসকে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশে^ ধনী দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানি এবং দরিদ্র অঞ্চলগুলো যেমন সাব-সাহারান আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বিপুল আয়ের বৈষম্য ও জীবনমানের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন। লেখকরা বৈশ্বিক বৈষম্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অন্যান্য তত্ত্বের প্রবক্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ বিতর্কে প্রবেশ করেছেন, যেমন জেফ্রি স্যাকস ও জ্যারেড ডায়মন্ডের ভৌগোলিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব, অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এসথার ডুফলোর ‘এলিটদের অজ্ঞতা’ তত্ত্ব, সেমুর মার্টিন লিপসেটের আধুনিকীকরণ তত্ত্ব। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক তত্ত্বেরও সমালোচনা করেছেন। যেমন ডেভিড ল্যান্ডেসের উত্তর ইউরোপের বিশেষ সাংস্কৃতিক কাঠামো সংক্রান্ত ধারণা, ডেভিড ফিশারের ব্রিটিশ সংস্কৃতির ইতিবাচক প্রভাব তত্ত্ব, ম্যাক্স ওয়েবারের প্রোটেস্ট্যান্ট নৈতিকতার অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভাব সংক্রান্ত তত্ত্ব। লেখকরা সবচেয়ে তীব্রভাবে ভৌগোলিক তত্ত্বের সমালোচনা করেছেন। কারণ এই তত্ত্ব শুধু বৈশি^ক বৈষম্যই নয়, বরং কেন বহু দেশ দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর হঠাৎ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে? যদিও তাদের ভৌগোলিক অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে, তা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ।

সাইমন জনসন অ্যাসেমোগলু ও রবিনসনের সঙ্গে বহু গবেষণাপত্রের সহলেখক ছিলেন এবং পরে তাদের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেন। তবে তিনি এই বইটির রচনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। উদাহরণস্বরূপ, ২০০২ সালের একটি প্রবন্ধে তারা পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণকে গুরুত্বপূর্ণ বলেন। আবার ২০০১ সালের এক গবেষণায় তারা দেখান, উপনিবেশে ইউরোপীয় বসতিস্থাপনকারীদের মৃত্যুহার কীভাবে ভবিষ্যৎ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও উন্নয়নকে প্রভাবিত করেছে। টেকসই উন্নয়নের শর্ত সম্পর্কে তুলনামূলক গবেষণা লেখকরা অ্যারিজোনার নোগালেস এবং মেক্সিকোর সোনোরার নোগালেস এই দুই সীমান্তবর্তী শহরের উদাহরণ দিয়ে শুরু করেন। একই ভৌগোলিক পরিবেশে অবস্থিত হলেও, মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্তের দুই পাশে বসবাসমান মানুষের জীবনমানের পার্থক্য কেন এত বিশাল, এই প্রশ্ন তারা উত্থাপন করেন। কারণ টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে প্রযুক্তির ধারাবাহিক পরিবর্তন ও উন্নতি যুক্ত। যাকে বলা হয়, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। লেখকরা মনে করেন, এর জন্য সমাজের বিস্তৃত অংশের সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষা এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোগ থেকে আয় করার সুযোগ অপরিহার্য, যেমন পেটেন্ট। কিন্তু কোনো ব্যক্তি পেটেন্ট পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই চায় যাতে আর কেউ তার চেয়ে উন্নত সংস্করণ আবিষ্কার করতে না পারে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যা ব্যক্তিগত স্বার্থের এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। লেখকদের মতে, এই ব্যবস্থার নাম হলো বহুত্ববাদী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সমাজের বিস্তৃত জনগোষ্ঠী শাসনব্যবস্থায় অংশ নিতে পারে। এতে পুরনো উদ্ভাবক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিকভাবে সমাজ লাভবান হয়। বহুত্ববাদী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য উপকারী। ফলে পুরনো পেটেন্টধারী, নতুন উদ্ভাবন ঠেকাতে পারে না এবং প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ধারণাটি প্রথম দেন অর্থনীতিবিদ জোসেফ শুম্পিটার, যিনি একে ‘সৃজনশীল ধ্বংস’ (Creative Destruction) নামে অভিহিত করেন। ফিলিপ আগিয়ঁ ও পিটার হাউইট এই ধারণাকে অর্থনৈতিক মডেলে রূপ দেন, যেখানে নতুন পণ্যের উন্নয়নের প্রণোদনা আসে সাময়িক একচেটিয়া মুনাফা থেকে। লেখকদের মতে, শুধু বহুত্ববাদী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই নিশ্চিত করতে পারে যে, বিদ্যমান একচেটিয়া শক্তি নতুন প্রযুক্তির পথ রুদ্ধ করতে পারবে না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতার একটি ন্যূনতম কেন্দ্রীকরণও প্রয়োজন, নইলে বহুত্ববাদ বিশৃঙ্খলা রূপ নিতে পারে।

লেখকদের মতে, দেশের উন্নয়ন নির্ণায়ক ভূমিকা রাখে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ সমাজে বিদ্যমান আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক নিয়ম এবং সেগুলো প্রয়োগের ব্যবস্থা। তারা প্রতিষ্ঠানকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন : অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) এবং শোষণমূলক (Extractive)। এই দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই একে অপরকে শক্তিশালী করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সমাজের বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করে কেবল এলিট শ্রেণির নয়। এতে অন্যায়ভাবে সম্পত্তি হরণ করা যায় না এবং সবাই অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশ নিতে পারে। এর ফলে শ্রমিকরা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আগ্রহী হয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। যেখানে জনগণ শাসনকার্যে অংশ নিতে পারে। আধুনিক উদার গণতন্ত্রের ভিত্তি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান। পক্ষান্তরে শোষণমূলক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমাজের বৃহৎ অংশকে তাদের নিজস্ব শ্রমের ফল থেকে বঞ্চিত করে। দাসপ্রথা, সার্ফডম ও এনকোমেন্ডা এর উদাহরণ। এখানে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোনো প্রণোদনা থাকে না, কারণ অতিরিক্ত আয় এলিটরা কেড়ে নেয়। এ ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাধারণত শোষণমূলক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকে, যেখানে ক্ষমতা একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে যেমন স্বৈরতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র বা নামমাত্র গণতান্ত্রিক অথচ কর্র্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা। বইটিতে মূলত দুটি তত্ত্ব আলোচনা করা হয়েছে (১) গণতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের উৎপত্তির কারণ, (২) গণতন্ত্র কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং স্বৈরতন্ত্র কীভাবে তা বাধাগ্রস্ত করে। গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি হিসেবে লেখকদের মতে, বিপ্লবের হুমকি ও সম্পদ পুনর্বণ্টনের চাপ ধনী শ্রেণিকে গণতন্ত্র মেনে নিতে বাধ্য করে।

গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা প্রসঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে এই ধারণা লেখকরা তাদের অন্যান্য গবেষণয়ও দেখিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তারা ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব, ঔপনিবেশিক শাসন এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক উত্থানের বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্র এক রাতে ব্যর্থ হয় না। ধ্বংসের বীজ তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানেই বপন করা থাকে। সংস্কৃতি, আবহাওয়া, ভূগোল এমনকি যুদ্ধ কোনো একক ঐতিহাসিক ঘটনা মানুষই, প্রকৃতি নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। দেশগুলো কেন সাম্প্রতিককালে ১০ দেশে ভাগ হলো, তার প্রধান ১০টি কারণ চিহ্নিত হয়েছে। ১. সম্পত্তির অধিকারহীনতা (উত্তর কোরিয়া) : ‘কোরিয়া একটি প্রায় সম্পূর্ণ সমজাতীয় জাতি। তবু উত্তর কোরিয়ার মানুষ পৃথিবীর দরিদ্রতমদের মধ্যে আর দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ ধনীতমদের মধ্যে। কারণ দক্ষিণ কোরিয়া এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, যা উদ্ভাবনকে পুরস্কৃত করে এবং সবাইকে অর্থনৈতিক সুযোগে অংশ নিতে দেয়। এখানে রাষ্ট্র সবকিছুর মালিক; ব্যক্তিগত মালিকানা প্রায় অসম্ভব। ২. জোরপূর্বক শ্রম (উজবেকিস্তান) : বাধ্যতামূলক শ্রম উদ্ভাবন ও অগ্রগতিকে ধ্বংস করে। ৩. বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতা (দক্ষিণ আফ্রিকা) : ‘কালার বারাদ্দ নীতির ফলে কৃষ্ণকায়দের কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়। ৪. এলিটদের লোভ (মিসর) : মুবারক আমলে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনী অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ৫. নতুন প্রযুক্তি রোধ (অস্ট্রিয়া ও রাশিয়া) : ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এলিটরা অগ্রগতি ঠেকায়। ৬. আইন ও শৃঙ্খলার অভাব (সোমালিয়া) : কার্যকর রাষ্ট্র ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব। ৭. দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকার (কলম্বিয়া): রাষ্ট্র অর্ধেক অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ৮. দুর্বল জনসেবা (পেরু) : সড়ক ও বাজারে প্রবেশাধিকারই দারিদ্র্যের পার্থক্য তৈরি করে। ৯. রাজনৈতিক শোষণ (বলিভিয়া) : এক এলিটের জায়গায় আরেক এলিটের আগমনে সাধারণ মানুষের অবস্থা অপরিবর্তিত। ১০. সম্পদের জন্য সংঘর্ষ (সিয়েরা লিওন) : অতিরিক্ত শোষণ সহিংসতা ও রাষ্ট্র ব্যর্থতা ডেকে আনে।

লেখক; সাবেক সচিব ও কলাম লেখক

mazid.muhammad@gmail.com