‘আফগানিস্তানে ন্যাটো সেনারা ফ্রন্টলাইনে যায়নি’ ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাজ্যে তীব্র ক্ষোভ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটো সেনারা ফ্রন্টলাইনের একটু পেছনে অবস্থান করেছিল। তার এমন বক্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ ও নিহত সেনাদের পরিবারে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিশ্চিত নন যে যুক্তরাষ্ট্রের কখনো প্রয়োজন হলে ন্যাটো সামরিক জোট তাদের পাশে দাঁড়াবে কি না। তিনি বলেন, ‘আমাদের কখনো তাদের প্রয়োজন হয়নি। বাস্তবে আমরা তাদের কাছ থেকে কখনোই কিছু চাইনি। ওরা বলবে তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল। পাঠিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তারা একটু পেছনে ছিল—ফ্রন্টলাইনের একটু বাইরে।’

ট্রাম্পের এমন বক্তেব্যের পর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা মন্ত্রী স্টিফেন কিনক বিবিসি ব্রেকফাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে তিনি হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের দাবির কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এসব মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই দাবি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং বিভ্রান্তিকর।

স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, আমেরিকার মিশন—বিশেষ করে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন মিশনগুলোতে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো জায়গায় বহু ব্রিটিশ সেনা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্র দেশের সেনারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। তারা আমাদের দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছে। সম্মান, বীরত্ব ও দেশপ্রেমের প্রকৃত উদাহরণ তারাই। যারা তাদের কাজ বা আত্মত্যাগের সমালোচনা করতে চান, তারা স্পষ্টতই ভুল করছেন।

এদিকে স্টিফেন কিনক ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এলবিসিকে তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ভীষণ গর্বিত, এবং তিনি বিষয়টি প্রেসিডেন্টের কাছে স্পষ্ট করে তুলে ধরবেন।’

কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকও ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে সরাসরি ‘অর্থহীন বক্তব্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, ৯/১১ হামলার পর ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে যুক্তরাজ্যসহ একাধিক মিত্র দেশ। এই সংঘাতে ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা সদস্য নিহত হন।

৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো ‘আর্টিকেল ৫’ কার্যকর করে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘ন্যাটোর কোনো এক সদস্যের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।’