বিসিবির আপিল শুনবে না ডিআরসি, শনিবারই বিকল্প স্কটল্যান্ডের নাম ঘোষণা!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বদলের দাবিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি (ডিআরসি)-তে আবেদন করলেও সেটি শুনানির আওতায় পড়ছে না। আইসিসির বিধি অনুযায়ী, বোর্ড অব ডিরেক্টরসের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার এখতিয়ার ডিআরসির নেই। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই শেষ প্রচেষ্টাও কার্যত ব্যর্থ হতে যাচ্ছে।

আইসিসি ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ডকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ রেখে দিয়েছে। বাংলাদেশ দল ভারত সফরে না গেলে ২৪ জানুয়ারি, অর্থাৎ শনিবরের মধ্যেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডিআরসির প্রধান ইংলিশ আইনজীবী মাইকেল বেলফের (কিংস কাউন্সেল) কাছে আবেদন জমা দেওয়া হলেও আইসিসির ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ অনুযায়ী এই কমিটি কোনো আপিল ট্রাইব্যুনাল হিসেবে কাজ করতে পারে না।

বিসিবির এক সূত্র পিটিআইকে জানায়, “বিসিবি সব সম্ভাব্য পথ ব্যবহার করতে চেয়েছে বলেই ডিআরসির কাছে গেছে। যদি ডিআরসিতেও সাড়া না মেলে, তাহলে কেবল কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-ই শেষ ভরসা।”

এর আগে আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরস স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪–২ ভোটে ভারতের ভেন্যুতেই বাংলাদেশের ম্যাচ রাখার পক্ষে রায় দেয়। সেই মূল্যায়নে নিরাপত্তা ঝুঁকি ‘কম থেকে মাঝারি’ পর্যায়ের বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেন, নিরাপত্তার কারণে দলকে ভারতে পাঠানো হবে না এবং এ সিদ্ধান্ত সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।

আইসিসির এক বোর্ড সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, “বাংলাদেশ চাইলে ডিআরসির কাছে যেতে পারে, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই কমিটির পক্ষে বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনা সম্ভব নয়।”

এদিকে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। খুব দ্রুতই বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। আইসিসির ভেতরে বিসিবির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানিয়েছে পিটিআই। বিশেষ করে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগে সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি বৈশ্বিক সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, আইসিসির ডিআরসি ব্রিটিশ আইনের আওতায় পরিচালিত হয়। অতীতে ২০১৮ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের করা ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি সংক্রান্ত মামলাও এই কমিটি খারিজ করেছিল। সে সময়ও ডিআরসি স্পষ্ট করেছিল, বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার এখতিয়ার তাদের নেই।