যশোর

‘স্যানিটেশন ও আবাসন’ প্রকল্পে ৪ কোটি টাকা লোপাট!

যশোরে ‘স্যানিটেশন ও আবাসন’ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর নির্মাণ, বাথরুম, পানির ট্যাংক, সৌর বিদ্যুৎ ও সাবমারসিবল দেয়ার নামে ৫ হাজার দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা জামানত নিয়ে কাজ না করে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। 

সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই টাকা দিয়ে ‘সটকে পড়ায়’ বিপদে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। গ্রাহকদের দেওয়া কথা রাখতে না পেরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। 
 
ইতোমধ্যে যশোর প্রেসক্লাব সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাঠ কর্মীরা। 

লিখিত বক্তব্যে প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার শিলা খাতুন বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জেলা কৃষি শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবসেবা ট্রেডার্স লিমিটেড পরিচয়ে যশোরের ৮ উপজেলায় ‘স্যানিটেশন ও আবাসন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পে সিনিয়র অফিসার, ফিল্ড সুপারভাইজার পদে যশোরের ৮টি উপজেলায় ২৫ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঘর নির্মাণ, বাথরুম, পানির ট্যাংক ও সাবমারসিবল দেয়া। এজন্য গ্রাহক প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে প্রকল্পের জেলা সুপারভাইজার মুরাদ হোসেন ও জেলা কৃষি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুজ্জামানের কাছে জমা দেন। 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রথম দিকে দুই-একজনের ঘর নির্মাণ,বাথরুম,পানির ট্যাংকি ও সাবমারসিবল  স্থাপন করে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে হচ্ছে-হবে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। আর গত দুই মাস তাদের বার বার ফোন দিয়ে রিসিভ করছেন না। উপায় না পেয়ে তারা মনিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। একইভাবে কেশবপুরে র‌্যাব ক্যাম্পেও অভিযোগ করেছেন।

প্রকল্পের সিনিয়র অফিসার বেবী খাতুনের দাবি, প্রতিটি পরিবারকে ঘর নির্মাণ, টিউবওয়েল ও সৌর বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৫ লাখ, ইতি খাতুন  ৮ লাখ, সালমা বেগম ১৫ লাখ, ফরিদা পারভীন ১৫ লাখ, ফতেমা বেগম ৫ লাখ টাকাসহ ২৫ জন কর্মী বিভিন্নধাপে প্রায় কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে টাকাগুলো আত্মসাৎ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা তাদের চাপ দিলে এখন উল্টো আমাদেরকে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে। চাকরির সময় জমা দেয়া আমাদের ফাঁকা চেকের অপব্যবহার করতে পারে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্পের জেলা সুপারভাইজার মুরাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক জানতে পেরে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। 

প্রকল্পের অপর কর্মকর্তা অভিযুক্ত জেলা কৃষি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুজ্জামান বলেন, আমাদের মাঠকর্মীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে যে টাকা তুলেছিলেন এর একটি অংশ আমার কাছে জমা দেন। আমি সেগুলো প্রকল্পের জেলা সুপারভাইজার মুরাদ হোসেনের কাছে দিয়েছিলাম। মুরাদকে আমি বারবার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বলেছি। কিন্তু তিনি কাজও করছেন না। আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। বর্তমানে তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগই বন্ধ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার কোন দোষ নেই। কর্মীদের মতো তিনিও চাকরি করেন। মূল কর্মকর্তা অর্থাৎ প্রকল্পের জেলা সুপারভাইজার মুরাদ হোসেন। সব দায় তার। আমি তার প্রতারণার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।