ফেনীর কোরাইশ মুন্সি বাজারে রাজাপুর ইউপি ভবন নির্মাণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ১২:২১ পিএম

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ও কোরাইশমুন্সী এলাকার বাসিন্দাদের টানাহেঁচড়ার কারণে রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে না।

রাজাপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান কোরাইশ মুন্সী বাজারে পরিষদের নতুন স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এ দাবি পূরণে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শনিবার (২৩ মে) বিকালে ফেনী শহরের রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে  এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কথা বলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকার ২০১৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের স্থান নির্বাচন বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল, হাটবাজার-সংলগ্ন, বন্যামুক্ত ও জনবহুল এলাকায় ভবন নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনার আলোকে ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি কোরাইশ মুন্সী বাজারসংলগ্ন আবদুল নবী মৌজায় ২৬ শতক জমি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের বরাবর রেজিস্ট্রি করা হয়। যা বর্তমানে ইউপির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রয়েছে। এলাকাবাসীর মতামত উপেক্ষা করে ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল ইউনিয়নের এক প্রান্তে উত্তর রাজাপুর এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হায়দার চৌধুরী রাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে একটি একতলা পাকা-ভবন নির্মাণ করেন। সেখানেই চলত পরিষদের কার্যক্রম। ১৯৭২ সালের পর সেই ভবনটি আর ব্যবহার করা হয়নি। বর্তমানে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী। ভবনের দরজা-জানালা ও এমনকি ছাদও নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ভবনটি। তাছাড়া যে স্থানে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে, সেটি ওয়াকফ সম্পত্তি। ওই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক মামলা চলছে।

সূত্র আরও জানায়, রাজাপুর বাজারে একটি ভবনের দোতলায় পাঁচটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতি কক্ষের ভাড়া ৫শ টাকা করে। সেখানে ভিজিডি ও ২। প্রতিটি কক্ষ ১০ ফুট বাই ১০ ভিজিএফসহ কোনো ধরনের সহায়তার মালামাল রাখার গুদাম নেই।

কোরাইশমুন্সি এলকার মাহবুবুর রহমান, অলি আহম্মদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম কানন, কৌব্বাত হোসেন খোকন জানান, কৌরশমুন্সি বাজার সংলগ্ন ২৬ শতক ভূমি ইউনিয়ন বোর্ড অফিস নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবরে দলিল রেজিষ্ট্রি ও জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন করা আছে। যাহা দাগনভূঞা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের ১২/০১/২০২১ ইং তারিখের ১৬১নং ছাপকবলা দলিল ও যাহার জমাখারিজ খতিয়ান নং: ১৫৭০।

তাদের দাবি, ১৯৭৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন অস্থায়ী বোর্ড অফিস কোরাইশমুন্সী বাজারে ছিল এবং ওই অফিস থেকে ইউনিয়নের সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালিত হত। কৃষি ব্যাংক, গ্রামীন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য ছোট বড় সরকারী-বেসরকারী অফিস কোরাইশমুন্সি বাজারে রয়েছে। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১-৬নং ওয়ার্ড এর জনগণ কোরাইশমুন্সী বাজারমুখী তথা উক্ত বাজার থেকে তাহাদের দৈনন্দিন বাজার সদাই সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কার্য নির্বাহ করিয়া থাকেন। ইউনিয়নের ৭০ শতাংশ জনগণ কোরাইশমুন্সি বাজার এর সাথে সংযুক্ত। এছাড়া ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি, পল্লি বিদ্যুৎ এর সাব-স্টেশন রয়েছে। ২০২৪ এর ভয়াবহ বন্যাকালীন সময় কোরাইশমুন্সী বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকা বন্যা মুক্ত ছিল। ১৭ গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত রাজাপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা ৬১ হাজার ৩৬২। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত