সাকিব ফিরলে খেলবেন কোথায়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে নির্বাচকদের, শনিবার বিসিবি পরিচালকদের সভা শেষে এমনটাই জানিয়েছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। আরেক বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন তার সঙ্গে সাকিবের নিয়মিত যোগাযোগ আছে, যদিও দেশের একটি গণমাধ্যমে এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন যে তার সঙ্গে বিসিবির কোনো যোগাযোগ হয়নি। মামলা, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকা সাকিব যদি শেষ পর্যন্ত লাল-সবুজের জার্সি ফের গায়ে তোলার টানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তাহলে কোন সংস্করণে কী ভূমিকায় খেলতে পারেন এই অলরাউন্ডার? গত বছর দেড়েক বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়ানো সাকিবের পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বোলার হিসেবেই একাদশে আসার সুযোগ আছে তার।

সাকিব তার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের সময়। বলেছিলেন দেশের বাইরে সেটাই তার শেষ টেস্ট, ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে হতে পারে শেষ ওয়ানডে। তবে কিছুদিন আগে মইন আলির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে সাকিব বলেছেন তিনি কোনো সংস্করণ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি। দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিলেন, সেটা সম্ভব হয়নি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে। বিক্ষুব্ধ জনতার স্টেডিয়াম ঘিরে আন্দোলনের মুখে বিসিবি সাহস করেনি তাকে খেলাতে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবাই পর্যন্ত এসে ফিরে যান সাকিব। তার বদলে হাসান মুরাদকে দলে নেওয়া হয়, এই প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, ‘সাকিব তার টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে।’ কানপুর টেস্টের পর কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেননি সাকিব, ব্যাটিংয়ে তার শেষ ইনিংস ছিল ০ রানের।

২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সাকিব ছিলেন কানাডায়, খেলছিলেন গ্লোবাল টি২০ লিগে। সেই টুর্নামেন্টে সাকিব বাংলা টাইগার্স-এর হয়ে ৬ ম্যাচে করেছিলেন ৭০ রান, সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৬ রানের, ৪ মেরেছিলেন ৭টি আর ছক্কা ৩টি। এরপর খেলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টি-১০ লিগ এনসিএল ইউএসএ টুর্নামেন্টে। সেখানে ৪ ম্যাচে সাকিব করেছেন ৬২ রান, সর্বোচ্চ ইনিংস ২০ রানের আর বোলিংয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিতই খেলে থাকেন সাকিব, জাতীয় দলের খেলা না থাকায় সিপিএলে ১১টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। অ্যান্টিগা ও বারবুডা ফ্যালকনস দলের হয়ে সাকিব করেছেন ১৮০ রান, উইকেট নিয়েছেন ৬টি। উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ২০ বলে হাফসেঞ্চুরি, যা তার ক্যারিয়ারের দ্রুততম। তবে বল হাতে তাকে খুব একটা ভরসা করেনি দল, ৬ নম্বর বোলার হিসেবেই বেশি ব্যবহার করেছে সাকিবকে। মাত্র ২ ম্যাচে সাকিব তার ৪ ওভার বোলিং কোটা পূরণের সুযোগ পেয়েছেন। জানুয়ারিতে শেষ হওয়া আইএলটি২০-তেও এমআই এমিরেটস দলের হয়ে খেলেছেন সাকিব। তার দল টুর্নামেন্টে হয়েছে রানার্স আপ। এই আসরেই সাকিব দলের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটিং করতে না পারায় শারজায় ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ট্যাকটিকাল রিটায়ারমেন্ট করায় দল, অর্থাৎ তুলে নেয় ব্যাটিং থেকে। তার বদলে নামেন কিয়েরন পোলার্ড। আসরে সাকিব মোট করেছেন ১১৫ রান, নিয়েছেন ৫ উইকেট, স্ট্রাইক রেট ছিল ১২২।

সম্প্রতি সাকিব খেলছেন সৌদি আরবের জেদ্দায় ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট ফেস্টিভ্যাল নামের একটি প্রদর্শনী ডাবল উইকেট টুর্নামেন্টে। যেখানে খেলছেন ইরফান পাঠান, বেন কাটিং, শোয়েব মালিকরা।

বিসিবি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক করেছিল লিটন দাসকে। তার মেয়াদ বাড়বে কি না, সেটা জানা যাবে আগামীতে। লিটন একটা দলকে গত বছর দেড়েক সময় ধরে তৈরি করেছেন। সাকিব যে জায়গাটাতে খেলেন সেখানে শামীম হোসেন পাটোয়ারী নিয়মিত খেলেছেন। আয়ারল্যান্ড সিরিজে তাকে দলে না রাখায় প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে কথার লড়াইতে লিপ্ত হতেও পিছপা হননি লিটন। গত ৪ বছরে বামহাতি স্পিনার হিসেবে নাসুম আহমেদ হয়ে উঠেছেন কার্যকর। ৩১ ম্যাচ তার ২৭ উইকেট। সাকিবকে যদি দলে ফেরানো হয়, তাহলে এই দুজনের কাউকে হয়তো একাদশের বাইরে যেতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, ৩৯ বছরে পা রাখতে যাওয়া সাকিবকে নির্বাচকরা যদি দলে নেনও, অধিনায়ক লিটন কি রাজি হবেন? ২০২৩ সালে আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ওয়ানডের পর তামিম ইকবাল আচমকা সরে দাঁড়ানোর পর লিটনকে অধিনায়ক করা হয়েছিল, সেই সংবাদ সম্মেলনে বারবার তামিম প্রসঙ্গ আসায় খানিকটা বিরক্তই হয়েছিলেন লিটন। সাকিব ফিরলে লিটনের তার ছায়ায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে অধিনায়কও নিশ্চয়ই চাইবেন না, পড়তি ফর্মের সাকিবকে দলে নিয়ে শুধু শুধু বিতর্ক টেনে আনতে।