দুবাইয়ে গালফুড, বাংলাদেশ থেকে ৩৪টি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে

দুবাইয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য ও পানীয় পণ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গালফুড-২০২৬। ৩১তম আসরের এই মেলা একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে Dubai World Trade Centre (DWTC) এবং Dubai Exhibition Centre (DEC), Expo City—এই দুই ভেন্যুতে। পাঁচ দিনব্যাপী মেলাটি চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

বিশ্বের প্রায় ১৯০টিরও বেশি দেশ থেকে ৮,৫০০-এর বেশি শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, নীতিনির্ধারক এবং উদ্যোক্তারা এবারের আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। এই বৈশ্বিক মেলায় বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করছে ৩৪টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, যেখানে মোট ৭২ জন এক্সিবিটর উপস্থিত রয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত “Bangladesh Pavilion” অবস্থিত South Hall-12, Dubai Exhibition Centre (DEC), Expo City, Dubai-তে। ভেন্যু পরিবর্তন এবং দুই ভেন্যুর মধ্যে দূরত্ব থাকায় এবারের মেলাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছেন অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, স্ন্যাকস, মসলা, চাল, বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং কৃষিভিত্তিক মূল্য সংযোজিত দেশীয় পণ্য। মেলায় আগত আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিপণনকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং B2B নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর।

মেলার উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের শুভ উদ্বোধন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর পরিচালক (মেলা) মোহাম্মদ ওয়ারেস হোসাইন, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার, বাংলাদেশ মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা, অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি কোম্পানির প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

এ সময় ইপিবির পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেস হোসাইন বলেন, “গালফুডের মতো আন্তর্জাতিক মেলা বাংলাদেশের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশি পণ্যের গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্য বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।”

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। গালফুডের মতো বৈশ্বিক মেলার মাধ্যমে নতুন বাজার সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ আরও বাড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মান উন্নয়নের বিকল্প নেই।

এবারের গালফুড মেলায় এক মিলিয়নেরও বেশি খাদ্যপণ্যের প্রদর্শন, লজিস্টিকস স্টার্টআপ, গ্রোসারি সেক্টরের জন্য আলাদা আয়োজন এবং AI-powered matchmaking প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ায় মেলাটি পেয়েছে নতুন মাত্রা।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন খরচ এবং আন্তর্জাতিক মান ও খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। বিশেষ করে হালাল ও হিমায়িত খাদ্যপণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।

গালফুড-২০২৬ বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যা পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে কার্যকরভাবে ব্র্যান্ডিং করতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।