ইয়ামাল ম্যাজিকে ফের শীর্ষে বার্সেলোনা

রিয়াল মাদ্রিদের দখল করা লা লিগার শীর্ষস্থান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুনরুদ্ধার করল বার্সেলোনা। রবিবার রাতে বৃষ্টিভেজা কাম্প ন্যুতে রিয়াল ওভিয়েদোকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ফেরে শীর্ষে ফিরেছে কাতালানরা।

ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের প্রথমার্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে লিগের তলানিতে থাকা ওভিয়েদো। একের পর এক আক্রমণ সামলেও বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল। তবে বিরতির পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সেলোনা। ৫২ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে গোলের খাতা খুলে দেন দানি ওলমো। ডিফেন্ডার ডেভিড কারমোর ক্লিয়ার করতে দেরির সুযোগে লামিনে ইয়ামালের চিপ থেকে বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় জালে পাঠান ওলমো।

পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সা। এবারও রক্ষণভাগের ভুলে বিপাকে পড়ে ওভিয়েদো। ডেভিড কস্তাসের দুর্বল ব্যাকপাস কেটে নিয়ে গোলরক্ষক অ্যারন এসকানদেলকে চিপ শটে পরাস্ত করেন রাফিনহা।

ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে ৭৩ মিনিটে। দানি ওলমোর ক্রস থেকে কাঁচি কিক ও ব্যাকহিলের মিশেলে চোখধাঁধানো অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ১০০ গোল অবদানে পৌঁছে যান তিনি। বার্সেলোনার হয়ে ১৩২ ম্যাচে ৩৬ গোল ও ৪৬ অ্যাসিস্ট মোট ৮২ গোলে অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ২৩ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট, মোট অবদান ১৮। সব মিলিয়ে মাত্র ১৫৫ ম্যাচেই এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।

এই কীর্তিতে ইয়ামাল ছাড়িয়ে গেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকাদের। মেসির ১০০ গোল অবদানে পৌঁছাতে লেগেছিল ১৫৯ ম্যাচ, আর রোনালদোর প্রয়োজন হয়েছিল ২৩৬ ম্যাচ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মেসি ও রোনালদো দুজনই এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন ২১ বছর বয়সে, যেখানে ইয়ামালের বয়স এখনো ১৯ পূর্ণ হয়নি।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বয়সের তুলনায় ইয়ামালের মানসিক পরিপক্বতা ও ধারাবাহিকতা বিরল। ওঠানামায় ভরা এক মৌসুমেও নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন লামিনে ইয়ামাল কেবল প্রতিভাবান নন, বরং ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ ফুটবলের অন্যতম মুখ। এই জয়ে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা, এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।