নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১২ 

সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ডুমুর ইছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে৷

আহতরা হলেন- ডুমুরইছা গ্রামের সোহেল শেখের ছেলে মইন শেখ, আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিব, মনু শেখের ছেলে রিফাত শেখ, ফজলু তালুকাদারের ছেলে খায়রুল শেখ, নুরনবীর ছেলে হিমেল ও হাছেনের ছেলে হিমেল।

এলাকাবাসী জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী গ্রামের সড়কে ধানের শীষের মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে জামায়াতের একটি মিছিল ওই স্থান দিয়ে পার হয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর একপর্যায়ে তারা হামলা সংঘর্ষে জড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি, কিলঘুসি ও মারপিট শুরু করে। এতে উভয়পক্ষের ১০/১২ জন আহত হয়। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।  

এ ঘটনার খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াত নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করছে। তারা মিছিলে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের ছয়জনকে আহত করেছে। যার মধ্যে ২/৩ জনের অবস্থা খুবই গুরুতর। বর্তমানে তারা সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অপরদিকে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলছেন, ওই গ্রামে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত মিছিল ছিল। কিন্তু মিছিল শেষ হওয়ার আগ মূহুর্তে বিএনপির ছেলেরা পিছন থেকে অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। পরে নিজেদের আত্মরক্ষার্থে মিছিলে থাকা কিছু লোক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে তাদের অন্তত ৫/৬ জন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শিমুল তালুকদার বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় রাতে ৬ জন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন ভর্তি রয়েছেন। বাকি তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তবে ভর্তি হওয়া একজনের অবস্থা গুরুতর।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন সেখানে শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।