সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও সরকারি চাকরিতে বহাল হৃদয় শেখ 

আদালতের সাজাপ্রাপ্ত আসামি সরকারি চাকরিতে বহাল আছেন। তার নাম হৃদয় শেখ। আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও তিনি ফ্যায়ার ম্যান হিসাবে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস সিলেট বিভাগের ওসমানীনগরে কর্মরত রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামি নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিলেটের ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মরত রয়েছেন আসামি মো. হৃদয় শেখ (২২)। তার বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার ফকিৎপুর গ্রামে । তিনি ওই গ্রামের গ্যাস ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব শেখের ছেলে।  

মামলা সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বুজরুক বোয়ালীয়া গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে হৃদয় শেখ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কথা বলে আট লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা নেয়। পরে সেই টাকা ও গ্যাস সিলিন্ডার দিতে অস্বীকার করলে আলমগীর হোসেন আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান গত বছরের ২৯ আগস্ট আসামি হৃদয় শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার পর আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা মূলে ওয়ারেন্ট ইস্যু রয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় শেখ বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। বাদী আলমগীর আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছে। আদালতে আমি এর জবাব দিব।' 

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় শেখের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, 'প্রায় এক মাস আগে হ্রদয় শেখের বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্টের কাগজ এসেছিল। সেগুলো আমাদের মহাপরিচালক বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এই গুরুতর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দ্রুতই চাকরি থেকে অপসারণ করা হবে।'