'মেসি সেরা', তবে ডি মারিয়ার চোখে রোনালদোর পেশাদারিত্ব অনন্য

লিওনেল মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন আনহেল ডি মারিয়া। আবার ক্লাব ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে একই দলে খেলেও মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। সময়ের দুই মহাতারকাকে এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম ফুটবলারেরই হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কে সেরা—এ প্রশ্নে সরাসরি রায় না দিলেও স্বদেশি মেসিকেই খানিকটা এগিয়ে রাখলেন ডি মারিয়া। তবে পেশাদারিত্বের দিক থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তুলনা নেই বলেই মত তার।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আগেই বিদায় জানিয়েছেন আনহেল ডি মারিয়া। তবে ক্লাব ক্যারিয়ার এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন শৈশবের দল রোজারিও সেন্ট্রালে। সম্প্রতি স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক এএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি মেসি ও রোনালদো সম্পর্কে নিজের ভাবনাও তুলে ধরেছেন তিনি।

২০১০ সালে বেনফিকা ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ডি মারিয়া। সে সময় ক্লাবটিতে আগে থেকেই ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পরের চার মৌসুমে এই দুজন একসঙ্গে ইউরোপের মঞ্চে আলো ছড়ান। সেই সময় পর্তুগিজ তারকাকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।

ডি মারিয়া বলেন, “পেশাদারিত্বের বিচারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই সবার সেরা—অনেকটা এগিয়ে। সে যে পরিমাণ পরিশ্রম করে, নিজের মান ধরে রাখতে যে চেষ্টা চালায় এবং লিওর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থাকতে যে ধারাবাহিক চেষ্টা করে—সবকিছুই সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তবে সে মেসির যুগে খেলেছে, যা তার অনেক লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মূলত কঠোর পরিশ্রম আর সেরা হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আর ড্রেসিংরুমে আমার পাশে থাকা লিওনেল মেসি দেখিয়েছে—সেরাদের সেরা হতে তার ভেতরে ঈশ্বরপ্রদত্ত এক অনন্য প্রতিভা আছে।”

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্লাব ফুটবল শাসন করেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মেসির ঝুলিতে রয়েছে আটটি ব্যালন দ’অর, আর ২০১৬ ইউরো জয়ী অধিনায়ক রোনালদো জিতেছেন পাঁচবার বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি।

বয়স বাড়লেও দুজনের কেউই থেমে যাননি। লিওনেল মেসির বয়স ৩৮ পেরিয়েছে, আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আগামী মাসেই ৪১ বছরে পা দেবেন। তবু মাঠে তাদের দাপট এখনও চোখে পড়ার মতো। আগামী বিশ্বকাপেও যে ফুটবলবিশ্বের আলো থাকবে এই দুই কিংবদন্তিকে ঘিরে—তা বলাই যায়।