চ্যাম্পিয়নস লিগে গুরু শিষ্যের অসম লড়াই

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে বুধবার বেনফিকার মাঠ এস্তাদিও দা লুজে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ক্লাবটিরই সাবেক কোচ হোসে মরিনহো—এখন বেনফিকার দায়িত্বে।

লিগ পর্বের টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা ১৫ বারের ইউরোপসেরা রিয়ালের জন্য এই ম্যাচে জয় মানেই সরাসরি শেষ ষোলো। তাতে প্লে-অফ এড়ানোর পাশাপাশি দ্বিতীয় লেগ ঘরের মাঠে খেলার সুবিধাও পাবে তারা। অন্যদিকে মরিনহোর বেনফিকার সামনে সম্ভাবনা ক্ষীণ—প্লে-অফে যেতে হলে জয়ের পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলও অনুকূলে লাগবে। তবু সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গর্বের লড়াইই বড় প্রেরণা পর্তুগিজ কোচের জন্য।

রিয়ালের বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়া মরিনহোরই সাবেক শিষ্য। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত মোরিনহোর সময়কালে রিয়ালের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার ছিলেন তিনি। জানুয়ারির শুরুতে সাবেক কোচ জাভি আলোনসোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রথমবার সিনিয়র দলে দায়িত্ব পান আরবেলোয়া। তবে ম্যাচের আগে এক মন্তব্যে মরিনহো যেন পরোক্ষ খোঁচা দিয়েছেন তাকে। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, “যাদের তেমন ইতিহাস নেই, তারা কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলোর কোচিংয়ের সুযোগ পায়—এটা আমার কাছে বিস্ময়কর।”

এ মন্তব্যের জবাবে সংযত ছিলেন আরবেলোয়া। ৪৩ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড বলেন, “মরিনহো আমার জন্য কী, সবাই জানে। এমন একজন কোচ কিছু বললে আমি তা শুনি এবং বিশ্লেষণ করি।” রিয়ালের কোচ হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই তিনি জানান, মরিনহোর প্রভাব তিনি নিজের মধ্যে বহন করেন এবং তার অধীনে কাজ করাকে সম্মান ও সৌভাগ্য মনে করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নকল হতে চান না—“আমি যদি মরিনহো হওয়ার চেষ্টা করি, নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হব।”

আরবেলোয়ার অভিষেক ম্যাচে কোপা দেল রেতে দ্বিতীয় স্তরের আলবাসেতের কাছে বিদায় নিতে হলেও পরের তিন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রিয়াল, যার মধ্যে মোনাকোর বিপক্ষে ৬–১ গোলের বড় জয়ও আছে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জয়ের পর আরবেলোয়া বলেন, দলের স্বাভাবিক শক্তির বিপরীতে গিয়ে কিছু চাপিয়ে দেওয়া বোকামি হবে—কাউন্টার অ্যাটাকের কার্যকারিতাই কাজে লাগাতে চান তিনি।

মরিনহো ২০১৩ সালে রিয়াল ছাড়ার পর মাত্র একবারই সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছেন—২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে ইউরোপিয়ান সুপার কাপের ফাইনালে, যেখানে রিয়ালের কাছে ২–১ গোলে হেরেছিল তার দল। রিয়াল ছাড়ার পর প্রথম দিকে ফেরার গুঞ্জন থাকলেও ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আর ঝুঁকি নেননি—মরিনহোর কড়া পদ্ধতির নেতিবাচক দিকগুলোও মাথায় রেখেছিলেন তিনি।

২০১২ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো, তার অধীনে খেলতেন আলভারো আরবেলোয়া

মরিনহোর সময়েই আধুনিক যুগে রিয়াল–বার্সেলোনা দ্বন্দ্ব তুঙ্গে ওঠে। ২০১১ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপের এক ম্যাচের পর হাতাহাতিতে বার্সেলোনার সহকারী কোচ টিটো ভিলানোভার চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সেই উত্তেজনার প্রতীক। ড্রেসিংরুমে বিভাজনও তৈরি হয়েছিল তার চাপে।

পোর্তো, চেলসি ও ইন্টার মিলানের সাফল্যের পর রিয়ালে এলেও এরপর ক্যারিয়ারের গ্রাফ ধীরে নেমেছে মোরিনহোর। ২০১৭ সালে ইউনাইটেডের সঙ্গে ইউরোপা লিগ জিতলেও টটেনহ্যাম, রোমা ও ফেনারবাহচেতে তার মেয়াদ ছিল মাঝারি। গত সেপ্টেম্বর বেনফিকা তাকে নিয়োগ দেয় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশায়। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে একাধিক হারে ইউরোপ ছাড়ার শঙ্কায় তারা। ঘরোয়া লিগে তৃতীয় স্থানে থাকা বেনফিকা জানুয়ারিতে পর্তুগিজ কাপ থেকেও বিদায় নিয়েছে—সমর্থকদের অসন্তোষ বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে রিয়ালের লিসবন সফর মোরিনহোর জন্য এক রাতের হলেও পুরোনো আধিপত্যের দাবি জানানোর সুযোগ। আর রিয়ালের জন্য—শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার মঞ্চ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত