চার মাসের শীতনিদ্রায় দেশের ক্রিকেট

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪ মাসের দীর্ঘ বিরতি। ২ ডিসেম্বর সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সিরিজ ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি ১২ মার্চ। বিপিএল আয়োজন এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া, সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় ৪ মাসের বিরতি পড়েছে। জাতীয় দল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বকাপের এই সময়টায় ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখার জন্য চলছে পরিকল্পনা, কয়েকদিনের ভেতরই জানা যাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো কিছু শুরুর সম্ভাবনা কম।

বিশ্বকাপের সময় বিসিবির পূর্বপরিকল্পনায় ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ বছর বয়সীদের নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)-এর মতো অঞ্চলভিত্তিক আকারে রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্ট  আয়োজন করা। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের ডিসেম্বর মাসের সভা শেষে এই তথ্য জানিয়েছিলেন সংস্থার মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। তবে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেই জানিয়েছেন বিসিবির এক কর্মকর্তা। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, ‘বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টটা হয়তো আমরা পিছিয়ে বছরের অন্য কোনো সময়ে নিয়ে যাব। এখন হয়তো বয়সসীমা উঠিয়ে সবাইকে নিয়েই টুর্নামেন্টটা হবে। ক্রিকেট অপারেশন বিভাগের সঙ্গে আলাপ চলছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী সূচি নির্ধারণ করা হতে পারে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে সিরিজ আছে সামনে, সেজন্য হয়তো বিসিএল ওয়ানডেটা আগে হতে পারে। পরে হয়তো বিসিএল চারদিনের ম্যাচটা (টুর্নামেন্ট) হবে।’

পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে যেতে পারে পাকিস্তান সুপার লিগের জন্য, এমনটাই নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি। এই মৌসুম থেকে দুটো দল বেড়েছে পিএসএলে। আইপিএলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিএসএল একই সময়ে করতে চায় পিসিবি। মার্চ ২৬ থেকে ৩ মে পর্যন্ত চলবে পিএসএল, এই টুর্নামেন্টের ঠিক আগে আগে ১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সফরে এসে পাকিস্তান ৩টা ওয়ানডে খেলবে কি না সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। এই সিরিজ যদি সময়মতো মাঠে না গড়ায়, তাহলে বাংলাদেশের পরবর্তী সিরিজ ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওয়ানডে ও ৩ টি-টোয়েন্টি। এপ্রিলের ১৭, ২০ ও ২৩ এই তিন দিনে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ও ২৭ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল ও ২ মে এই তিন দিনে ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলার সূচি নির্দিষ্ট করা আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ পিছিয়ে গেলে এপ্রিলে এই সিরিজ দিয়েই হয়তো মাঠে ফেরা হবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা শাহরিয়ার নাফীস দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সময়টায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের খেলার মধ্যে রাখার জন্য পরিকল্পনা চলছে, ‘আসলে এই পরিস্থিতিটা তো খানিকটা অপ্রত্যাশিত। তবে আমাদের খেলোয়াড়দের খেলার মধ্যে রাখার জন্য পরিকল্পনা চলছে, ২-৩ দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত কিছু জানতে পারবেন।’ নাফীস জানিয়েছেন, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স দেশেই আছেন। কোচিং স্টাফদের বাকি সদস্যদের ২০ তারিখের ভেতরে বাংলাদেশে চলে আসার কথা থাকলেও তারা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আসেননি।

প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে অংশ না নেওয়া ৮ ক্লাবের ক্রিকেটারদের নিয়ে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপ। যে আসরের খেলাগুলো হচ্ছে পুবেরগাঁও ক্রিকেট একাডেমি, ক্রিকেটার্স একাডেমি, পূর্বাচলে বিসিবির মাঠসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে। এনসিএলের সময় রাজশাহী, বগুড়া বা কক্সবাজারেও খেলা আয়োজন করা হয়। তবে বিসিএল-এর ওয়ানডে সংস্করণ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোর নামই শোনা গেল বিসিবি কর্মকর্তার কণ্ঠে, ‘জাতীয় দল যেখানে খেলে; ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম এ রকম কোথাও হবে।’ তবে কবে নাগাদ এই টুর্নামেন্ট শুরু হতে পারে সেই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এখন যা পরিস্থিতি, তাতে নির্বাচনের আগে টুর্নামেন্ট শুরু করলে খুব অগোছালো হবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কোনো কিছুর সম্ভাবনা কম।’

বিপিএল শেষ, বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ দর্শক। আপাতত ক্রিকেটারদের সামনে লম্বা ছুটি। ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপে সুইডেন সুযোগ না পাওয়ার পর দেশটির তারকা ফুটবলার জøাতান ইব্রাহিমোভিচ ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বকাপে যাচ্ছি, তবে দর্শক হিসেবে।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা চাইলে দর্শক হিসেবে বিশ্বকাপে যেতে পারেন, এই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের তো এই অভিজ্ঞতা হয়নি!