টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে কি না—এই প্রশ্নে এখনো চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। রাজনৈতিক, আইনি ও আর্থিক জটিলতা বিবেচনায় রেখে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বোর্ড। সব দিক পর্যালোচনা করেই আগামী সপ্তাহের শুরুতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
টেলিকম এশিয়া স্পোর্টস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এ বিষয়ে ব্যাপক পরামর্শে রয়েছেন। সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়সহ বিভিন্ন মহলের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির সফরসঙ্গী হয়ে সেখানে তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন নকভি। পাশাপাশি সাবেক কয়েকজন পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গেও শিগগিরই পরামর্শ করবেন তিনি।
বোর্ড সূত্রের ভাষ্য, টুর্নামেন্ট ছাড়াও এর প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত যেতে পারে—এমন একটি ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেতরে ভেতরে ঐকমত্য গড়ে তুলতে চায় পিসিবি।
হুট করে কোনো ঘোষণা দিতে রাজি নয় পিসিবি। লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হবে রবিবার। তার পরদিন সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের শুরুতে দলের পারফরম্যান্সও বড় ভূমিকা রাখবে।
সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান প্রথমে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস ও ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নিজেদের দুই ম্যাচ খেলবে। এই দুটি ম্যাচেই জয় পেলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বর্জনের সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলে ঝুঁকি নিতে পারে বোর্ড।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রচারস্বত্ব ও আইনি জটিলতা। পিসিবির আইন উপদেষ্টারা বোর্ডকে সতর্ক করেছেন, এই ম্যাচ না খেললে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে জিও স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আইসিসির প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর। এই আয়ের অংশ সব সদস্য দেশের মধ্যে বণ্টিত হয়। পাকিস্তান ম্যাচ বর্জন করলে সম্প্রচারকারী ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি পথে যেতে পারে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত আইসিসির মাধ্যমে পিসিবিসহ সব সদস্যের বার্ষিক তহবিলে পড়তে পারে।
আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণ ছাড়া একতরফাভাবে ম্যাচ বর্জনের সুযোগ খুবই সীমিত। পাকিস্তান যেহেতু নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় খেলছে, তাই নিরাপত্তা ইস্যু দেখানোর সুযোগ নেই। রাজনৈতিক কারণে ম্যাচ না খেলতে হলে পাকিস্তান সরকারকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।