পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের হাত থেকে পাটুরিয়া ঘাট ও আশপাশের এলাকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট এলাকার আরসিএল মোড়ে আরুয়া ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গত বর্ষা মৌসুমে পাটুরিয়া ঘাট ও দাসকান্দি থেকে নয়াকান্দি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলেও এখনো স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সর্বস্তরের মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরুতে আগস্ট মাসে পাটুরিয়া ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। ৫ আগস্ট লঞ্চঘাটের মূল অংশসহ উত্তর দিকের একটি বড় অংশ পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে লঞ্চে ওঠানামার জন্য নির্মিত জেটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে জরুরি পরিস্থিতিতে ঘাট স্থানান্তর করে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌরুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু রাখা হলেও তিন মাস পর আবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আগের স্থানে এনে সেবা চালু করা হয়।
এছাড়াও আগস্টের ভাঙনে ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটের মধ্যবর্তী এলাকা এবং দক্ষিণ পাশে ১৮ থেকে ২০টি বসতবাড়িসহ বিস্তীর্ণ জনপথ নদীগর্ভে চলে যায়। এতে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে।
মানববন্ধন কর্মসূচির আগে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আরসিএল মোড়ে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন পান্নু খান, দৌলতপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান তোজ্জাম্মেল হক তোজা, নূরুল ইসলাম তুষার, নেহাজ উদ্দিন মেম্বার, জালাল মেম্বার, বিএনপি নেতা ছাত্তার মোল্লা, আবুল কাশেম, বিল্লাল হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ছয় মাস আগে পদ্মার ভাঙনে পাটুরিয়া ঘাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকা বিলীন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরও ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তারা।
মানববন্ধন চলাকালে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী মুছা মিয়া এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বজলুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে বেলা পৌনে ১টার দিকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।