গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েত করবে ছাত্রসংসদ নেতারা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) যৌথভাবে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

কর্মসূচি অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ একত্রিত হয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব গণজমায়েতে ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষক, চিকিৎসক, শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম বিভাগীয় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায় সিলেটের বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ যে ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছে, গণভোট সেই স্বপ্নকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতৃত্ব এ বিষয়ে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দিলেও গণভোটের পক্ষে বা রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে জনগণ কোনও স্পষ্ট বার্তা পাচ্ছে না।

ডাকসুর ভিপি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ বারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে না, বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করার সুযোগ পাবে না এবং ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকার দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ বন্ধ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এসেছে, যেগুলো বিগত ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে দিয়ে ইনসাফ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল এসব সংস্কার প্রস্তাবনায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাকসুর জিএস বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার মাধ্যমে পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর বিলোপ ঘটিয়ে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত