যে কারণে রেজা কিবরিয়াকে ছাড় দেননি শেখ সুজাত

সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারি রেজা কিবরিয়াকে বিনা যুদ্ধে নির্বাচনী মাঠ ছাড়তে রাজি নন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। ফলশ্রুতিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তিনি বিএনপি থেকে হয়েছেন বহিষ্কৃত। তবে শেখ সুজাত বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই তার প্রতীক ঘোড়াকে জেতাতে গণসংযোগ, উঠোন বৈঠক লিফলেট বিতরণ করছেন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। একই সঙ্গে পিছিয়ে নেই বিএনপির পার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়াও। 

মাঘের শীতকে উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনের নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ধানের শীষ নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের মতে, হবিগঞ্জে ৪টি আসনের মধ্যে এ আসনেই সবচেয়ে বেশি ভোটের লড়াই হবে। 

শেখ সুজাত মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি জনগণের সুখে দুঃখে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত আছি। এ আসনে আমি ভোটের রাজা। আবারো জনগণের ভোটে  নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানকে হবিগঞ্জ- ১ আসনকে উপহার দিতে চাই। তার আশা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ঠিকই তারেক রহমান তাকে দলে টেনে নেবেন।

নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ানোর কারণ সম্পর্কে শেখ সুজাত জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে রেজা কিবরিয়ার পক্ষে কাজ করার ইচ্ছে ছিল। রেজা কিবরিয়াকে তারেক রহমান বলেছিলেন আমার সাথে বসতে। ১৯ জানুয়ারি রেজা কিবরিয়া আমার সাথে সাক্ষাত করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। পরদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ মুহুর্তেও আমি দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে গোল্ডেন প্লাজায় তার জন্য অপেক্ষা করেছি। নবীগঞ্জে অবস্থান করা সত্বেও তিনি ওইদিন সন্ধ্যায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আসেন। এ সময় রেজা কিবরিয়া আমার প্রতি সৌজন্যতাবোধ দেখানো দূরের কথা তিনি ধানের শীষের পক্ষে বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন। তার পিতা আওয়ামীলীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিতে থাকেন। এ সময় গোল্ডেন প্লাজায় অপেক্ষয়মান নেতাকর্মী রেজা কিবরিয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া ভুয়া বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা ঘোড়া ঘোড়া বলে শ্লোগান দেন।

৪৫ বছর আগে লন্ডনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপি রাজনীতিতে যোগদান করেন দাবি করে শেখ সুজাত মিয়া বলেন ২০১১ সালে আওয়ামীগের বর্ষীয়ান নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর ওই আসনে উপ নির্বাচনে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। ওই নির্বাচনে ডা. মুশফিকের গ্রামের ভোট কেন্দ্রেও ধানের শীষ জয়ী হয়। এবারও জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে আশাবাদী।

এ প্রসঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে রেজা কিবরিয়া বলেন সুজাত মিয়ার সাথে বসার কোন প্ল্যান ছিল না। আমি তার মোবাইলে যোগাযোগ করেছিলাম। তার ব্যক্তিগত সহকারী জানালেন সুজাত মিয়া ব্যস্ত রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারীকে আমার কলের ব্যাপারে ম্যাসেজ দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। এরপর শেখ সুজাত আমার সঙ্গে কোন যোগাযোগ করেননি। রেজা কিবরিয়া বলেন ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময়ও আমি সুজাত মিয়ার সাথে দেখা করেছিলাম। তিনি যে র্দুব্যবহার করেছেন এর ভিডিও আছে। তিনি এখন দলের বহিষ্কৃত মানুষ। শেখ সুজাত আমার বিরুদ্ধে বাজে কথা প্রচারণা করছেন। এখন আর তার সাথে কথা সবার সুযোগ নেই। অনেক দেরি হয়ে গেছে। 

স্বাধীনতার পর থেকে হবিগঞ্জ ১ আসনটি বেশির ভাগ ছিল আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টির মুঠোয়। রেজা কিবরিয়া তার পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ভোটারদের সহযোগিতা চাচ্ছেন। অপরদিকে সুজাত মিয়ার দাবি জনগণ সব সময় তাকে পাশে পায়। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এর প্রমাণ দেবে।

হবিগঞ্জ ১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে মোট প্রার্থী ৫ জন। তারা হচ্ছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কাজী তোফায়েল আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মো. সিরাজুল ইসলাম, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশে মো. বদরুর রেজা, বিএনপির রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র শেখ সুজাত মিয়া। ভোটাররা বলছেন রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাতের মধ্যেই মূলত ভোটের লড়াই হবে। তাদের মতে, দুই পক্ষের ভোটার আছে।তবে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টির ভোট যার বাদ পড়বে তার বিজয়ী সম্ভবনাই বেশি।