একটি দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের বিবস্ত্র করার ঘোষণা দিচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আন্দোলনের দূর্গ। এই দূর্গ থেকে বাংলাদেশের সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দেশপ্রেমিক জনগণ জীবন দিয়ে আন্দোলন সফল করেছেন।

তিনি বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চ ময়দানে সুশাসন সংস্থার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আহবায়ক  মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া আরো বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত¡র হত্যাকান্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১২জনের অধিক মানুষ জীবন দিয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে আধিপাত্যবাদেও বিরুদ্ধে মোদী বিরোধী আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৭জন শহীদ হয়েছেন। 

সর্বশেষ জুলাই গনঅভ্যুত্থানেও এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৭জন বীর শাহাদাত বরণ করে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশর গনতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং বাংলাদেশের মানুষকে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করার আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান বাংলাদেশ আজীবন মনে রাখবে। 

অথচ আমরা বিগত সময় দেখেছি যে ফ্যাসিবাদী সরকার ছিল তারা শুধুমাত্র গনতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখার কারনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বঞ্চিত করেছে বৈষম্য করেছে। আমরা দেখেছি যে আলেম-ওলামারা দেশের জন্য জীবন দিতে কার্পণ্যবোধ করেনি। তাদেরকে নানা ধরনের ট্যাগ দিয়ে দেশের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। 

আমি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব নেয়ার পর আমরা বলেছি আমাদের আলেম-ওলামাদের পিছনে রেখে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারেনা। 

আমরা প্রথমেই হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে যারা শাহাদাতবরণ করেছে, সেই হত্যাকান্ডের শহীদ হয়েছিলেন তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা সকলে সেটা করতে সফল হয়েছি। তিনি বলেন যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে তাদের কাছে অর্থ গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি ও যথাযথ সম্মান।

তিনি বলেন আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে কওমী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা, ইসলামি গবেষণা, ব্যাংকিং, গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তিখাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। আমরা কওমী শিক্ষার্থীদেরকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে আলাদা করে দেখবো না। তাদেরকে পিছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাবোনা। 

জাতীয় পে স্কেলেকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, পেশ সিনিয়র ইমামকে ৫ম গ্রেড থেকে শুরু করে মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন এবং মাদরাসার নিরাপত্তা প্রহরীদের ২০ তম গ্রেডে ধাপে ধাপে সকলকে পে স্কেলের আওতায় এনে বেতন দিতে হবে। 

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এই পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাই। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৩-(সদর-বিজয়নগরের ৮ ইউনিয়ন) আসনের শাপলা কলির  প্রার্থী মোঃ আতাউল্লাহকে পরিচয় করিয়ে বলেন, ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিবাদী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থানের সকল আন্দোলনে এই প্রার্থী গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছেন।

 আতাউল্লাহকে সদর-বিজয়নগর আসনের জনগণের কাছে আমানত হিসেবে দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শাপলা কলিতে ভোট দিতে আহবান জানান এবং  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, আপনার জানেন এবছর ভোটের সাথে আরেকটি বিষয়ে ভোট হবে সেটা  হলো গণভোট। আমরা মনে করি এবারের মতো ভবিষ্যতেও আপনারা ভোট দিতে চান। বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো ভোট থেকে বঞ্চিত না হতে চান তাহলে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন। যদি শেখ হাসিনার মতো ভবিষ্যতে আর কোন স্বৈরাচার দেখতে না চান, যে আপনাদের সন্তানদের রক্ত জড়িয়েছে তাহলে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন।

যদি ঘুষ ছাড়া মামা- চাচা ছাড়া চাকরি পেতে চান তাহলে হ্যাঁ ভোটে ভোট দিন। যদি ব্যাংকে রাখা টাকা আমানতে টাকা নিরাপদে রাখতে চান, ব্যাংক লুটেরা থেকে রক্ষা পেতে চান তাহলে হ্যাঁ ভোটে ভোট দিন। যদি দুর্নীতি চাঁদাবাজি অর্থপাচার বন্ধ করতে চান তাহলে হ্যাঁ ভোটে ভোট দিন। 

তিনি বলেন, যদি মা বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা চান, আমরা দেখছি একটি দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের বিবস্ত্র করার ঘোষণা দিচ্ছে। যদি তাদেরকে রক্ষা করতে চান তাহলে হ্যাঁ ভোট দিন। যারা মা বোনদের নিরাপত্তার হুমকি হওয়ার দুঃসাহস দেখাবে ১১ দলীয় জোট জণগণকে সাথে নিয়ে তাদের কালো হাত গুড়িয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচনী পদযাত্রায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগরের ৮ ইউনিয়ন) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫-(নবীনগর) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, জামায়াতে ইসলামীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাসিন হাসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মোঃ আলী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদস্য সচিব  প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী প্রমুখ।