চবিতে চার দিনব্যাপী প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দশম বারের মতো শুরু হয়েছে প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন-২০২৬। ‘আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতার মাধ্যমে নগর শাসনব্যবস্থা এবং সামাজিক অবস্থানগত ন্যায়বিচারের পুনর্গঠন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সংস্থা (সিইউমুনা)-এর উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অডিটোরিয়ামে চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটি চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। 

এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমীর মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাফর উল্লাহ তালুকদারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের সম্মেলনে মোট ১০টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো হলো— জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-১ (ডাইসেক), জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচআরসি), জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি), জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন), সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি (ইউএন হ্যাবিট্যাট), আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (আইপি) এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ ধরনের সম্মেলন শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক আলোচনা ও বিশ্লেষণে দক্ষ করে তোলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিজেদেরকে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের শিক্ষার্থী নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমীর মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরকে উত্তম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

এর আগে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী জাতিসংঘ সম্মেলন ২০২৬-এর মহাসচিব আনিকা তাহসীন সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দশম সংস্করণ কোনো একক ব্যক্তির স্বপ্ন নয়; বরং বহু মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা নিষ্ঠা, সহযোগিতা এবং অভিন্ন অঙ্গীকারের ফল।

উল্লেখ্য, সম্মেলনে ১০টি কমিটির অধীনে দেশের ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। পাশাপাশি আফ্রিকা, আফগানিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নিয়েছেন।