গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি কমিটির কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত হামাস

গাজা উপত্যকার শাসনভার একটি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত হামাস। বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এমনটিই জানিয়েছেন সংগঠনটির এক মুখপাত্র।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, মিসরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংটি ইসরায়েলের কোনো বাধা ছাড়াই উভয় দিক থেকে খুলে দিতে হবে।

হামাসের মুখপাত্র হাযেম কাসেম এএফপিকে বলেন, ‘প্রটোকল প্রস্তুত, নথিপত্র সম্পূর্ণ এবং সব খাতে গাজা উপত্যকার শাসনভার টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর নিশ্চিত করতে তদারকি কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে।

১৫ সদস্যের ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট দল, যা ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব তাদের ওপর থাকবে। কমিটিটি কাজ করবে বোর্ড অব পিসের তত্ত্বাবধানে, যার সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শা’আথের নেতৃত্বাধীন কমিটি রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু হলে গাজায় প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হামাস মুখপাত্র কাসেম আরও বলেন, রাফাহ ক্রসিংটি উভয় দিক থেকে (প্রবেশ ও প্রস্থান) সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে খুলে দিতে হবে, ইসরায়েলের কোনো বাধা থাকা যাবে না।

রাফাহ হলো গাজার একমাত্র বহির্বিশ্ব সংযোগ পথ যা ইসরায়েলের দিকে যায় না এবং এটি মানুষ ও পণ্য উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।

২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ক্রসিংটি বন্ধ রয়েছে; ২০২৫ সালের শুরুতে স্বল্প সময়ের জন্য সীমিতভাবে খোলা হলেও পুনরায় চালুর অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

গত সপ্তাহে কমিটির প্রধান শা’আথ ঘোষণা করেন, পরবর্তী সপ্তাহেই রাফাহ উভয় দিক থেকে খুলে দেওয়া হবে।

কাসেম এএফপিকে বলেন, ‘রাফাহ ক্রসিং খোলার বিষয়ে স্বাধীন জাতীয় কমিটির ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো চুক্তি অনুযায়ী নাগরিকদের যাতায়াত পূর্ণ স্বাধীনতায় হচ্ছে কি না, নাকি ইসরায়েলি শর্ত অনুযায়ী হচ্ছে তা আমরা নজরে রাখব।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, শেষ জিম্মি রানের গিভিলির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পরই ‘সীমিত পুনরায় চালু’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কেবল পায়ে হাঁটা যাত্রীদের রাফাহ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেবে।

সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী গিভিলির মরদেহ উদ্ধার করে এবং বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মেইতারে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

কাসেম বুধবার আরও বলেন, এটা স্পষ্ট যে হামাস গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠিত হওয়া এবং গাজায় আটক শেষ জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত যাওয়ার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার।

যদিও হামাস বলছে, গিভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়া তাদের যুদ্ধবিরতি প্রতিশ্রুতির প্রমাণ, তবে তারা এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি।

হামাস বারবার জানিয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ তাদের জন্য ‘রেড লাইন’, তবে একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে তারা আলোচনা করতে পারে।

এখনও পর্যন্ত ইসরায়েল কিংবা হামাস কেউই সেনা প্রত্যাহার বা নিরস্ত্রীকরণের কোনো স্পষ্ট সময়সূচি বা কৌশলের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেয়নি।