মুদ্রাবিনিময় হার অবমূল্যায়ন

বিগত প্রায় পৌনে দুই দশকে মুদ্রাবিনিময় হার নিয়ে অকার্যকর ও আত্মঘাতী হস্তক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো আলোচনা এবং সম্ভাব্য প্রতিকার অনুসন্ধান অনুধাবন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯১ সালে সামরিক শাসন অবসানের পর বাংলাদেশে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা দুটি ধাপে অতিক্রম করেছে। ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টাকা ভাসমান ছিল এবং এর বিনিময় হার মূলত বাজার পরিস্থিতি দ্বারা নির্ধারিত হতো। ২০০৯-১০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত টাকার ওপর বিভিন্ন ধরনের প্রোটোকল প্রয়োগ করা হয়েছে, যেমন : নিয়ন্ত্রিত ভাসমান হার, স্থির হার, ‘মুদ্রাস্ফীতি নোঙর (inflation anchor)’, সংশোধিত স্থির/ক্রল ব্যবস্থা এবং সর্বশেষ আবার নিয়ন্ত্রিত ভাসমান ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন। ২০১০-এর পর থেকে এসব হস্তক্ষেপ অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই সমস্যাগুলোর স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায় ২০২১ সালের শেষ দিকে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে নাটকীয় হ্রাসে। যেটি অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে মিলিত হয়ে তৎকালীন সরকারকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছে, জরুরি সহায়তা চাইতে বাধ্য করে। আইএমএফ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪২ মাস মেয়াদি ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচি অনুমোদন করে। যার লক্ষ্য ছিল সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হঠাৎ সমন্বয়জনিত ঝুঁকি এড়াতে অর্থায়নের চাপ লাঘব করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন। বিগত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে, এই কর্মসূচির শর্ত ও মানদ- বাস্তবায়ন করছিল। যদিও উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি ছিল কিছু ক্ষেত্রে। সেই সময় থেকে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন আরও জরুরি ভিত্তিতে নেওয়ার অপরিহার্যতা অনুভূত হতে থাকে।

অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে, এখনো অনেক কিছু করা বাকি। যার মধ্যে একটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ হলো, বিনিময় হার নীতির মাধ্যমে দ্রুত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা। তা না হলে সরকার বর্তমানে যে সংস্কার ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবর্তিত ট্যারিফের অভিঘাত মোকাবিলা করে, খুব কমই বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করলে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি বড় অসংগতি চোখে পড়ে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমিত মন্তব্যে যে নীতিগত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে বিশেষ করে ২০১০ সালের পর থেকে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আরও বিস্ময়কর হলো, কেন এমনটি ঘটেছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নেই, যদিও বাস্তব বিনিময় হারের অতিমূল্যায়নের বিরূপ প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং তাদের পরামর্শদাতা অর্থনীতিবিদরা (বিশেষ করে ৫ম থেকে ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়) আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তাদের প্রক্ষেপণে বাস্তব বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কথাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বুঝতে অর্থনীতির অবস্থার দিকে তাকানো প্রয়োজন। ১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের অবসানে বাংলাদেশ ছিল দুর্বল অবস্থায়। সে সময় মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ছিল ৩১০ ডলার, মাথাপিছু জিডিপি ২৮৩ ডলার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৫%, রপ্তানি ছিল জিডিপির ৬.৭% এবং আমদানি ছিল ১২.২%। বৈদেশিক সহায়তা ছিল জিডিপির ৫.১% এবং প্রবাসী আয় ছিল ২.৫%। বিনিয়োগ ছিল ১৬.৯% এবং সঞ্চয় ২২.৬%। বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায় ছিল। কৃষি খাতে শ্রমশক্তির অংশ ছিল ৬৪.২%, কিন্তু জিডিপিতে এর অবদান ছিল ৩২%। মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.৪%। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার ছিল প্রতি হাজারে ১৪০ এবং খর্বাকৃতি শিশুর হার ছিল ৭৪%। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। খাদ্য ও পশুপালন উৎপাদন বাড়ছিল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনিময় বেশ কিছু কাল বাজারনির্ধারিত ছিল। ১৯৯১ সালে ডলারপ্রতি টাকার হার ছিল ৩৬.৬, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬% অবমূল্যায়ন নির্দেশ করে। এটি দেশীয় ও বৈদেশিক মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। যদিও বাস্তবতা এমনই ছিল যে, নতুন বেসামরিক সরকারের পক্ষে বিনিময় হার স্থির রাখা সম্ভব ছিল না। ১৯৯২ থেকেই অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। গড় বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫%। রপ্তানি জিডিপির ৭.৬% থেকে বেড়ে ১৬.৪% হয়। রেমিট্যান্স ২.৯% থেকে বেড়ে ৭.৬% হয়। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সময় বিনিময় হার ভাসমান ছিল এবং টাকা ৩৯ থেকে ৬৮.৯-এ অবমূল্যায়িত হয় (৭৭%)। মূল্যস্ফীতির তুলনায় বাস্তব বিনিময় হারে টাকার সামান্য অবমূল্যায়ন ঘটে। ২০০৬-২০১০ সময়ে টাকার নামমাত্র অবমূল্যায়ন ছিল মাত্র ১%, অথচ দেশীয় মূল্যস্ফীতি ছিল অনেক বেশি। ফলে বাস্তব বিনিময় হারে টাকা তীব্রভাবে অতিমূল্যায়িত হয়। এর ফলে রপ্তানি খাতের গতি হারিয়ে যায়। ২০১২ সালে রপ্তানি জিডিপির ২০.২%-এ পৌঁছালেও ২০২১ সালে তা নেমে আসে ১০.৭%-এ। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্বল অবকাঠামো, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অকার্যকারিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি এসব সমস্যার সঙ্গে বিনিময় হার নীতির ভুল সিদ্ধান্ত যুক্ত হয়ে ক্ষতি আরও গভীর করে। ২০১০-২০২১ সময়ে টাকার বাস্তব মান ডলার, ইউয়ান, রুপি, ইয়েন, পাউন্ডসহ প্রায় সব প্রধান মুদ্রার বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এটি বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতির একটি বড় কারণ ছিল প্রবাসী আয়ের দ্রুত বৃদ্ধি, যা ২০১১ সালের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিপুলভাবে বাড়ায়। এই অতিরিক্ত রিজার্ভ বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি করে, যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিগত যুক্তি ছিল না। এর ফল হয় ‘ডাচ ডিজিজ’, যেখানে হঠাৎ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাস্তব বিনিময় হার বাড়িয়ে দেয় এবং উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূলত ভাসমান বিনিময় হার (floating exchange rate)  ব্যবস্থার মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত হয়। অতি ও অস্বাভাবিক অবমূল্যায়ন হলে রপ্তানি পণ্য সস্তা হয় এবং আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। স্বল্পমেয়াদে অবমূল্যায়নের ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়। এ কারণেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভর কোনো অর্থনীতির জন্য মুদ্রার অতি অবমূল্যায়ন কাম্য নয়। মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, যার পরিণতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। এর ফলে ভোগের পরিমাণ কমে যায় এবং অর্থনৈতিক কর্মকা-ে স্থবিরতা আসে। বর্তমানে অনেক দেশ প্রায় দ্বিঅঙ্কের মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি, এমনকি কিছু দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। এর অর্থ হলো মানুষের ব্যবহারযোগ্য আয় (disposable income)  কমে যাওয়া, ফলে অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহও হ্রাস পায়। এতে রেভিনিউ ইনকাম, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

২০১০ সালের পর বিনিময় হার হস্তক্ষেপের তিনটি বড় নেতিবাচক ফল দেখা দেয় : ১. আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হারানো, ২. পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ও ৩. খ-িত স্বার্থরক্ষায় অর্থনীতির অপব্যবস্থাপনা। আইএমএফ সহায়তা নেওয়ার মাধ্যমে ২০২২ সালে সরকার প্রথমবারের মতো এই ক্ষতির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তবে ততদিনে দীর্ঘদিনের বিকৃত প্রণোদনা ও কাঠামোগত সমস্যার সমাধানের পথ দুরূহ ও দুসাধ্য হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় স্বল্পমেয়াদে করণীয় : টাকাকে পুরোপুরি ভাসমান করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পর্যালোচনার ভিত্তিতে ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের হরহামেশা হস্তক্ষেপ বন্ধ করা; সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত নীতিগত টাস্কফোর্স গঠন; রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, বাজেট ঘাটতি কমানো এবং আর্থিক খাত সংস্কার মধ্যমেয়াদে করণীয় : অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাজেট ও পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়া সংস্কার ও নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ। বলা বাহুল্য, ২০১০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিনিময় হার নিয়ে সরকারি হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। এই বিকৃতি দূর করতে সময়, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও আস্থার পুনর্গঠন প্রয়োজন। চীন ও ভারতে যেভাবে সহনশীল পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে তার আলোকে টাকাকে সম্পূর্ণ ভাসমান করা। এটি আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি তৈরি করবে। এটা অনস্বীকায যে, দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রার অবমূল্যায়ন বৈশি^ক অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। যার ফলে বাংলাদেশের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এ দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দুটি প্রধান উৎস হলো তৈরি পোশাক (RMG) রপ্তানি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স। চলতি অর্থবছর RMG রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বাস্তবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স হ্রাস এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (ACU)-এ বড় অঙ্কের পরিশোধ সব মিলিয়ে ডলারের জোগান কমে গেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২২ সালের মে মাসে নেমে আসে ৪২ বিলিয়ন ডলারে। ডলারের বহিঃপ্রবাহ ও অন্তঃপ্রবাহের ব্যবধান বাড়তে থাকায় চলতি হিসাব ঘাটতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যে সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার স্থবির থাকে, সে সময়ে মুদ্রার অবমূল্যায়ন প্রকৃত মজুরি কমিয়ে দিতে পারে। কারণ অবমূল্যায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, কিন্তু যদি মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হয়, তাহলে প্রকৃত মজুরি হ্রাস পায়। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় সরকারের সামনে দুটি বিকল্প থাকে 

১.  আমদানি ও বৈদেশিক লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করা, অথবা ২. আর্থিক নীতির মাধ্যমে ঘাটতি কমিয়ে আনা। সাধারণত যেসব দেশের অর্থনীতি রপ্তানিনির্ভর, সেখানে মুদ্রার অবমূল্যায়ন উপকারী হতে পারে। কারণ স্থানীয় মুদ্রার অতিমূল্যায়নের ফলে, তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। অবমূল্যায়নের ফলে তাদের পণ্য ও মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অবমূল্যায়ন থেকে খুব বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ আমাদের অর্থনীতি মূলত আমদানিনির্ভর। উদাহরণস্বরূপ,  তৈরি পোশাকশিল্পও কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ প্রবৃদ্ধিশীল একটি অর্থনীতি হিসেবে, যেখানে আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি এবং অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসও সীমিত,  সেখানে মুদ্রার অবমূল্যায়নের নিট প্রভাব বাংলাদেশের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত করনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে, নীতিগত সমন্বয় করা জরুরি। সময়োপযোগী এসব উদ্যোগ মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

লেখক: সাবেক সচিব

mazid.muhammad@gmail.com