লিংকডইন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রেইড হফম্যান বলেছেন, প্রযুক্তি খাতে কাজ করা শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে আওয়াজ তোলা উচিত। সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে ট্রাম্পের অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
হফম্যান বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু নীরব থাকলে পরিস্থিতি নীরস হয়ে যাবে-এমন ভাবনা 'ঝুঁকিপূর্ণ' এবং প্রযুক্তি নেতাদের ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়াবাড়ি নিয়ে কথা বলা উচিত। তিনি প্রতিটি নেতাকে সামাজিক ইস্যুতে ভূমিকা নেওয়ার দায়িত্ব মনে করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মিনিয়াপোলিসে গত সপ্তাহে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে এলেক্স প্রেটি ও রেনি গুড নামে দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ ছড়িয়েছে, এবং এতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের প্রতিশোধপরায়ণ আচরণের আশঙ্কায় গত বছরে আমেরিকার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা তাদের ব্যবসাকে প্রভাবিত করা নীতির ব্যাপারে জনসমক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি । এমনকি তারা নিজেরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখতে চেষ্টা করেছেন, তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কোটি কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন এবং তার উৎপাদন উদ্যোগকে অসংখ্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও এ পদক্ষেপকে কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষক শুধু বহির্বিশ্বে দেখানো অভিনয় হিসেবে আখ্যা দেন।
এদিকে, আমেরিকার বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর—যেমন গুগল, মেটা, সেলসফোর্স,ওপেনএআই—প্রায় ৪৫০ এর বেশি কর্মচারী একটি খোলা চিঠিতে তাদের শীর্ষ নির্বাহীদের প্রশাসনের প্রতি চাপ সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মচারীরা চিঠিতে বলেছেন, তারা চান সিইওরা হোয়াইট হাউজকে চাপ দিক যাতে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কে আমেরিকার শহরগুলোর বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করা হয় এবং আইসিই-এর সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলা হয়।
চিঠিতে কর্মীরা উল্লেখ করেছেন যে,সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যার ঘটনাগুলো অভিবাসন কার্যক্রমের মধ্যে না থেকে এখন নৃশংসতার পর্যায়ে চলে গেছে। তারা মনে করেন প্রযুক্তি শিল্পের নেতারা সরকারী নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারবেন।