বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঐতিহাসিক উচ্চতা স্পর্শ করার পরপরই তীব্র দরপতন দেখা গেছে। টানা উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে দ্রুত সংশোধন নেমে এসেছে। একই প্রবণতায় রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ার্শের নাম ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে স্বর্ণের দামে। শক্তিশালী ডলারের কারণে স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে বিক্রির চাপ বাড়ে।

দিনের লেনদেনে স্বর্ণের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে অল্প সময়ের জন্য প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৫.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮১.৫২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। এক পর্যায়ে তা নেমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯৫৭.৫৪ ডলারে। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স বাজারে স্বর্ণের দাম ৪.৬ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৮১.৭০ ডলারে নেমে আসে।

এক্সএস ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক রানিয়া গুলে বলেন, ‘দ্রুত উত্থানের পর এটিকে শক্তিশালী সংশোধন ও লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখছি। এতে অনেক বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করে ঝুঁকি কমিয়েছে।’

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪.৮২ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে বড় পতন সত্ত্বেও মাসিক হিসাবে স্বর্ণের বাজার ১৯৮২ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী উত্থানের পথে রয়েছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং টানা ষষ্ঠ মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেভিন ওয়ার্শ তুলনামূলকভাবে কঠোর নীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর ডলারের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে স্বর্ণে স্বল্পমেয়াদি চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে এশিয়ার দুই বড় বাজার ভারত ও চীনে ভৌত স্বর্ণের প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতে সম্ভাব্য আমদানি শুল্ক বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগ চাহিদা জোরদার হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। চীনেও বিনিয়োগ ও গহনা খাতে চাহিদা বাড়ায় প্রিমিয়াম উঁচুতে উঠেছে।

বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘আমরা মনে করছি স্বর্ণের দাম আজকের তুলনায় আরও নিচে নামতে পারে। তবে ২০২৬ সালে গড়ে দাম ৫ হাজার ৩৭৫ ডলারে দাঁড়াবে এবং বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।’

অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১৪.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৯৯.৭৯ ডলারে নেমেছে। দিনের মধ্যে তা ৯৫.৭৯ ডলার পর্যন্ত নেমেছিল। বৃহস্পতিবার রুপা রেকর্ড ১২১.৬৪ ডলারে উঠেছিল এবং চলতি মাসে ৪২ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তিশালী মাসিক পারফরম্যান্স দেখাচ্ছিল।

রুপার সাম্প্রতিক উত্থান প্রসঙ্গে রস নরম্যান বলেন, ‘রুপার উত্থানের পেছনে মৌলিক কারণ থাকলেও বাজারে স্পষ্টভাবে জল্পনাভিত্তিক অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা এখন ঝরে পড়ছে।’

প্লাটিনামের দাম ১২.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২ হাজার ২৯৮.৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সোমবার ধাতুটি রেকর্ড ২ হাজার ৯১৮.৮০ ডলারে উঠেছিল। পাশাপাশি প্যালাডিয়ামের দামও ৯.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮১৯.৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।

সূত্র: রয়টার্স