ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি বিশেষ সামরিক বাহিনী হওয়া সত্ত্বেও এ সংস্থাটিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড মূলত ইরানের সামরিক ব্যবস্থার একটি পৃথক শাখা। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর এই বাহিনী গঠন করা হয়। দেশের প্রচলিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি তারা আলাদাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

এই বাহিনী সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহি করে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা, বিদেশে পরিচালিত বিশেষ অভিযান এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

উপলভ্য তথ্য অনুযায়ী, বিপ্লবী গার্ডে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর বাইরে ৬ লাখের বেশি রিজার্ভ সদস্যও যুক্ত আছেন।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পারমাণবিক কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দেশ হিসেবে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে সময় প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সরকারি সামরিক বাহিনীর একটি শাখাকে এ ধরনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সামরিক দায়িত্বের বাইরে ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতেও বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব ও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন।

সূত্র: আলজাজিরা