শিরোপায় চোখ নেই বাটলারের

আগের দিন জানালেন নেপালের পোখারায় সাফের আসরে খেলতে যাওয়া নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে দুই-তিনজন খেলোয়াড়কে বাছবেন জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য। শুক্রবার প্রাক-টুর্নামেন্ট সংবাদ সম্মেলনেও ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার কথার পুনরাবৃত্তি করলেন একটু ভিন্নভাবে। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে পোখারায় বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গী হওয়ার কারণ শিরোপা জেতা নয়, বাটলার সেখানে গেছেন প্রতিভাবান ফুটবলারের খোঁজে। সারা বছর যে মেয়েরা তার অধীনেই ক্যাম্পে থেকে প্রস্তুতি নেয়, তাদের মধ্য থেকে এক-দু’জনকে পছন্দ করতে বাটলারের নেপাল যাওয়ার ব্যাখ্যাটা কি খুব যুক্তিযুক্ত? যেখানে নিজেই দেশের বাইরে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিতে না পারা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন, সেখানে ক্যাম্প পরিচালনার সুযোগটা কাজে না লাগিয়ে সদলবলে বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গী হওয়ার রহস্যটা তাই থেকেই যাচ্ছে।

১-২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় বসবে নারী এশিয়ান কাপ। প্রথমবারের মতো সে আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আগে বাটলারের পুরোটা সময়ই দেওয়ার কথা সিনিয়র দলকে। অথচ তিনি ২৯ ফুটবলারকে ফিটনেস ট্রেইনারের হাতে সঁপে দিয়ে বাটলার গেছেন প্রতিভা খুঁজতে! অথচ এসব নিয়ে বাফুফের সেভাবে মাথাব্যথা নেই। কোচ যা চাইছেন, সেটাকেই সমর্থন জানিয়ে নীরব থাকছে। সেই চাওয়াটা অন্যায় হলেও রা নেই কর্তাদের মুখে।

মাত্রই থাইল্যান্ড থেকে ইতিহাস গড়ে ফিরেছেন সাবিনা খাতুনসহ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার। যাদের শুধুমাত্র জেদের বসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সাফ জয়ের পর থেকেই জাতীয় দল থেকে ছিটকে ফেলেন বাটলার। সাবিনা, কৃষ্ণারানী, মাসুরারা বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন সাফ ফুটসালের প্রথম শিরোপা। পুরো আসরেই নিজেদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফিটনেসের প্রমাণ রেখেছেন সিনিয়ররা। বিশেষ করে সাবিনা। ৩২ বছরের ফরোয়ার্ডকে দেখে মনে হচ্ছে ফিটনেসের সেরা মানে রয়েছেন। অথচ বাটলার সিনিয়রদের ব্যাপারে পড়ে আছেন কাঠের চশমা। সাবিনা, কৃষ্ণাদের ফেরানো যখন ভক্তদের জোর দাবি, বাফুফের অনেক কর্তাও তাদের ফেরানোর পক্ষে তখন তাদের বিবেচনায় না এনে বাটলার গেছেন পোখারায়। হয়তো এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরুর আগে সদলবলে কোচ একটু হাওয়া বদল করতে চাচ্ছেন হিমালয়ের কোলে।

চার জাতি আসরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লক্ষ্য জানতে চাইলে কোচ একাধিকবার বলেছেন, প্রতিভা খুঁজে নেওয়ার কথা, ‘এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমি এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সামনে জাতীয় দল ও এএফসি অ-২০ দলের খেলোয়াড় সন্ধান করব। যারা সামনে বড় মঞ্চে খেলতে পারে। গত প্রায় ২ বছর ধরে আমি যেটা চেষ্টা করছি সেটা বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন। এটা উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম ও পর্যায়।’ কোচ মুখে শিরোপা লক্ষ্যের কথা না বললেও অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস ঠিকই বলেছেন আসরের ফাইনালে খেলার লক্ষ্যের কথা, ‘আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো করে ফাইনাল খেলতে চাই।’

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল শুক্রবার প্রথম অনুশীলন করেছে পোখারায়। গত বুধবার কাঠমান্ডু যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার পোখরায় পৌঁছায় দল। ফ্লাইট বিড়ম্বনায় অনুশীলন হয়নি সেদিন। আজ অবশ্য তারা সেরে নিয়েছেন উদ্বোধনী দিনে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ প্রস্তুতি। এ আসরে ভুটান ছাড়াও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত ও নেপাল। চার দল রাউন্ড রবিন লিগ ভিত্তিতে একে অপরের মুখোমুখি হবে। পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল খেলবে ফাইনালে। বাংলাদেশ যদি ফাইনালে যায়, তবে প্রতিভা খোঁজার নামে বাটলার অ্যান্ড গং-এর হাওয়া বদলটা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।