ইউরোপীয় ফুটবলে চলতি মৌসুমের বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছেন স্ট্রাসবুর্গের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হোয়াকিন পানিচেল্লি। লিগ আঁ'র ক্লাবটির হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আসন্ন বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দলে জায়গা পাওয়ার দৌড়েও চলে এসেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
১.৯০ মিটার লম্বর এই সেন্টার ফরোয়ার্ড নিজের খেলার আদর্শ হিসেবে দেখেন অলিভিয়ের জিরু ও এরলিং হলান্ডকে। চলতি মৌসুমে লিগ আঁ–তে স্ট্রাসবুর্গের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ গোল করেছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবরে প্যারিস সাঁ জার্মাঁর বিপক্ষে ৩–৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে তার জোড়া গোল বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রাসবুর্গের ঘরের মাঠ স্তাদ দ্য লা মেনোতে পানিচেল্লি বলেন, “ওই ম্যাচটাই সম্ভবত আমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ওই দিন থেকেই ফ্রান্স এবং ইউরোপজুড়ে মানুষ পানিচেল্লি নামটা চিনতে শুরু করেছে।”
গত মৌসুমে লা লিগার ক্লাব আলাভেস থেকে ধারে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে মিরানদেসের হয়ে ২১ গোল করেছিলেন তিনি। পানিচেল্লি বলেন, “আমি নিজেকে এখনই তারকা বলব না। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বড় অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদের হয়তো আরও বেশি সময় লাগত।”
তিনি যোগ করেন, “মিরানদেসে যাওয়া আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে ১০–১৫টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম, যেটা আত্মবিশ্বাস তৈরিতে সবচেয়ে দরকার ছিল। ওই সময়টাই আমাকে পরের ধাপের জন্য প্রস্তুত করেছে।”
স্পেনে যাওয়ার আগের মৌসুমটি অবশ্য তার জন্য কঠিন ছিল। ২০২৩–২৪ মৌসুমে বুয়েনস আইরেসের ক্লাব রিভার প্লেট থেকে স্পেনে পাড়ি দেওয়ার পর বড় ধরনের হাঁটুর চোটে পড়েন তিনি। উল্লেখ্য, রিভার প্লেটের মূল দলে কখনো খেলাই হয়নি পানিচেল্লির।
চোটের সময়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, “অনেকেই মনে করে চোট মানে পেছনে যাওয়া। আমি বরং এটাকে সামনে এগোনোর সুযোগ হিসেবে নিয়েছি। ইউরোপের ফুটবলের জন্য নিজেকে শারীরিকভাবে তৈরি করার সুযোগ পেয়েছি।”
সে সময় ওজন ও পেশি বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেন তিনি। “ওই ছয় মাসে আমি কয়েক কেজি ওজন ও পেশি বাড়িয়েছি।” এই উন্নতির ফলই তাকে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনা দলে ডাক। গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে অভিষেক হয় পানিচেল্লির। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসির বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। “নিজের দেশের হয়ে খেলা আমার জন্য স্বপ্ন। আমি খুবই আর্জেন্টাইন মানসিকতার মানুষ। আর মেসির বদলি হিসেবে মাঠে নামা—এটা ছিল একেবারে অবিশ্বাস্য, স্বপ্ন পূরণের মতো।”
মাঠে পানিচেল্লির ধরন অবশ্য তার কিংবদন্তি স্বদেশি মেসির চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। পুরোনো ধাঁচের স্ট্রাইকার হিসেবেই নিজেকে দেখেন তিনি, যা হয়তো কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বকাপ দল গঠনে তার পক্ষে যেতে পারে। 'মাঠে আমার প্রোফাইল যেমন, মাঠের বাইরেও আমি তেমনই। বই পড়া আর রক মিউজিক আমার খুব পছন্দ। তবে আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শারীরিক শক্তি ও অনেকটা জায়গা কভার করাও দরকার।”
পানিচেল্লি আরও বলেন,“আমি দুই পা ও হেড—সব দিয়েই কাজে লাগতে পারি। আর আমি খুব সাধারণ থাকতে চাই। অন্য কেউ যদি বেশি আলো পায় বা গোল করে, তাতেও আমার আপত্তি নেই।”
রবিববার বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে আরেকটি ভালো পারফরম্যান্স পানিচেল্লির বিশ্বকাপ স্বপ্নকে আরও শক্ত করতে পারে। “আমি শুধু নিজের কাজটা ঠিকভাবে করে যেতে চাই। নিয়মিত ভালো খেলতে পারলে সুযোগ একদিন না একদিন আসবেই। নিজেকে অযথা চাপের মধ্যে রাখতে চাই না।”