ক্রিকেটে আজ আবারও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান, এমন একটা আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। শনিবার লাহোরে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির টসের পর পাকিস্তান দলের ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন করার কথা ছিল, যেটা শেষ মুহূর্তে অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই অনূর্র্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টিকে থাকার দ্বৈরথে মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। রবিবার বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সুপার সিক্স পর্বের শেষ ম্যাচে সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়বে দুই বৈরী প্রতিবেশী। সেমিফাইনালে যেতে হলে জিততেই হবে পাকিস্তানকে, তার ওপর বাড়িয়ে নিতে হবে রানরেট। ভারতকে স্রেফ জিতলেই হবে, তবে হারের ব্যবধানটা বেশি বড় হলে বিপদে পড়তে পারে আসরের সবচেয়ে বেশিবারের শিরোপাজয়ীরা।

সুপার সিক্সের নিয়ম, একই গ্রুপ থেকে যে দলগুলো সুপার সিক্স পর্বে উঠবে তাদের বিপক্ষে জয়ের পয়েন্ট সুপার সিক্সে যোগ হবে। যে কারণে ‘সি’ গ্রুপ থেকে সুপার সিক্সের গ্রুপ-২ তে জায়গা পাওয়া ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে ইংল্যান্ড উঠেছে ৪ পয়েন্ট হাতে নিয়ে, পাকিস্তান উঠেছে ২ পয়েন্ট হাতে নিয়ে আর জিম্বাবুয়ে উঠেছে খালি হাতে। কারণ ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে হারিয়েছে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে দুই প্রতিপক্ষকেই, পাকিস্তান হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। সুপার সিক্সে পাকিস্তান হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে, এবারে সামনে ভারত। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার সিক্সে উঠে আসা ভারত হাতে করে এনেছে ৪ পয়েন্ট, সঙ্গে জিম্বাবুয়েকে সুপার সিক্সে ২০৪ রানে হারিয়ে পয়েন্ট বাড়িয়ে করেছে ৬ আর রান-রেটটাও করেছে আকাশচুম্বী, +২.৯৭৬। এই অবস্থায় পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে খেলতে হলে শুধু ভারতকে হারালেই হবে না, পেছনে ফেলতে হবে রানরেটে।

পাকিস্তান যদি আগে ব্যাট করে, তাহলে ভারতকে কমপক্ষে ১০৫ রান বা তার বেশি ব্যবধানে হারাতে পারলেই শেষ চারের চাবি পেয়ে যাবে তারা। আর যদি পরে ব্যাট করে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব রানটা তাড়া করে ম্যাচটা জিততে হবে পাকিস্তানকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, লক্ষ্য যদি হয় ২৫১ রান, পাকিস্তানকে সেই রানটা ২৯.৪ ওভার কিংবা তার চেয়ে কম বলের ভেতরই তাড়া করে জিততে হবে। ব্যাপারটা কঠিন সন্দেহ নেই, তবে অসম্ভবও নয়। যুব এশিয়া কাপের ফাইনালেই তো ভারতকে  ১৯১ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানের এই দলটাই। বৈভব সূর্যবংশীর তেজ ১০ বলে ২৬ রানেই খতম, অন্যদিকে সামির মিনহাস করেছিলেন ১৭২ রান যেখানে ভারতের গোটা দল মিলে করেছিল ১৫৬ রান। মাত্র ৪০ দিন আগেই যে দলটা এমন কা- ঘটিয়েছে, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়ার জন্য তারা সে রকমটা করতেই পারে।

শেষবার যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত-পাকিস্তানের যুবারা মুখোমুখি হওয়ার পর খেলা শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা কেউ কারও সঙ্গে হাত মেলাননি। বড়দের রেখে যাওয়া এই সংস্কৃতি উত্তরসূরিরা বহন করে চলছেন, যার মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে ক্রিকেটের রাজনৈতিক বিভাজন।