আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যাটার সাইতেজা মুখামাল্লা। গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের সাফল্য দেশটির ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। সুপার এইটে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এবারের আসরে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সাইতেজার।
শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি সাইতেজার প্রবল আগ্রহ ছিল। ভারতের ২০১১ বিশ্বকাপ জয় তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। মাত্র ৭ বছর বয়সেই তার ক্রিকেটে হাতেখড়ি। এর প্রায় ১৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন তিনি, তাও ভারতের বিপক্ষে ভারতীয় দর্শকদের সামনে। ২১ বছর বয়সী সাইতেজা হার্ড-হিটিং ব্যাটার না হলেও কার্যকর টপ-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সাইতেজার বাবা নাগেশ্বর রেড্ডির বাড়ি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে। ১৯৯৭ সালে তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরে ২০১৮ সালে ছেলের ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করে ভারতে চলে আসেন এবং হায়দরাবাদে ভিভিএস লক্ষ্মণের ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তবে প্রায় এক বছর পর পরিবার আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যায়, আর সেখানেই সাইতেজার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দ্রুত উত্থান ঘটে।
২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর ১৮ ম্যাচে সাইতেজার গড় ৪২.৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৫২.৮৭, যা তাকে আধুনিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সম্ভাবনাময় ব্যাটার হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্তত ১৫ ইনিংস খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি একজন, যাদের গড় ৪০-এর বেশি এবং স্ট্রাইক রেট ১৫০-এর ওপরে। তবে তার এই পরিসংখ্যান বেশিরভাগই সহযোগী দলের বিপক্ষে এসেছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুশীলন করেছে যুক্তরাষ্ট্র দল। সাইতেজা চেন্নাইয়ে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং পরে শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র দলের সঙ্গে যোগ দেন। সাইতেজা বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা আমাদের জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ কিছু। ভারতের হাজার হাজার দর্শকের সামনে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর।’
কেইন উইলিয়ামসনকে আদর্শ মানা সাইতেজা মেজর লিগ ক্রিকেটে টেক্সাস সুপার কিংস দলে খেলে ফাফ ডু প্লেসিস ও কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন। তাদের কাছ থেকে ইনিংস গঠন, ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানো এবং মানসিক দৃঢ়তা সম্পর্কে শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। পাওয়ার হিটিং উন্নত করতে সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান অল-রাউন্ডার আলবি মরকেলের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপের বাকি দলগুলো হলো- নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস আর পাকিস্তান। সাইতেজা বলেন, ‘গত বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটকে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। আমরা যদি নিয়মিত বড় দলের বিপক্ষে খেলতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারব। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আমাদের সামর্থ্য দেখানোর এটাই সেরা সুযোগ। যেকোনো দিনে আমাদের দল যে কোনো দলের সমান শক্তিশালী।’