ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপি নেতার হুমকির বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ হুমকির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রমুখী না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী প্রচারণায় সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের এ হুমকির বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গত দু’দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকাল ৪টায় সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদিপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজাম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিলে নির্বাচনের পর কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। আমরা গোয়েন্দা লাগিয়ে রেখেছি সব খবর আমাদের কাছে আছে। এ কেন্দ্রে ১৬০০ ভোট রয়েছে। এখান থেকে ১০-১৫ ভোটও যদি অন্য কোনও মার্কায় যায় তাহলে আল্লার কসম করে বলছি নির্বাচনের পর কারও রেহাই নেই।
মোবাইল ফোনে ধারণ করা ওই বক্তব্য পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুদিন ধরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায় নিজামউদ্দিনের বক্তব্যেল সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাহের, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক বাবুল আহমেদ, যুবদল নেতা রাকিব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির থেকে পদত্যাগী পৌরসভার আহবায়ক ওমর ফারুক টিটু, তার ভাই ওসমান গণি রিতু প্রমুখ।
ভোটাররা জানান, এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। ভোটার ও সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন। এমন হলে তারা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস জানান, একজন প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি নেতার হুমকি বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু ভোটের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় রয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জানান, তার আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে তিনি উঠান বৈঠক করেন। তার কিছু আত্মীয় স্বজন বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে থাকলেও গোপনে অন্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে তার আত্মীয় স্বজনদের শাসিয়েছেন বলে দাবি করেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, ভিডিওর বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।