মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল এক্স-রে রিপোর্টের কারণে এক যুবকের হাত ভাঙার চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছে। এতে ভাঙা হাতের অবস্থা বর্তমানে জটিল আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী যুবক উপজেলার দশচিড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে এক্সেভেটর চালক সাকিব হোসেন (২৬)। তিনি গত ১৪ জানুয়ারি হাতে আঘাত পান। পরে চিকিৎসার জন্য উথলী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে সেন্টারের টেকনোলজিস্ট নাসির উদ্দিন তার হাতে এক্স-রে করেন। সে সময় এক্স-রে ফিল্মে হাড় ভাঙার কোনো চিত্র নেই বলে তাকে জানানো হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাকিবের হাতের ব্যথা বাড়তে থাকলে ১১ দিন পর তিনি মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুনরায় এক্স-রে করান। সেখানে পাওয়া রিপোর্টে হাতে হাড় ভাঙার স্পষ্ট চিত্র ধরা পড়ে। ততদিনে চিকিৎসা বিলম্ব হওয়ায় তার হাতের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী সাকিব জানান, তিনি হাতে আঘাত পেয়ে উথলী ডায়াগনস্টিক গেলে কর্তব্যরত টেকনোলজিস্ট নাসির উদ্দিন তার এক্স-রে রিপোর্ট দেন। সেখানে হাড় ভাঙ্গার কোন দৃশ্যে না থাকায় তাকে আঘাতের স্থানে মালিশ করতে বলে।
ডায়াগনস্টিকের টেকনোলজিস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি ২০০৫ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। যদিও তিনি এই এক্স-রে করার বিষয় অস্বীকার করেন। তবে এক্স-রে কে করেছেন তার সদউত্তর দিতে পারেনি। এদিকে, ডাকাগনস্টিক পরিচালনা দায়িত্বে থাকা কাইয়ুম মোল্লাকে না পাওয়ার তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
সাকিবের বাবা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, চলতি মাসেই আমার ছেলের বিদেশে (সার্ভেয়া) যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে হাড় ভাঙেনি বলে জানানোয় আমরা সময়মতো চিকিৎসা করাতে পারিনি। পরে অন্য হাসপাতালে এক্স-রে করে ভাঙার বিষয়টি ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসার জন্য লক্ষাধিক টাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানালে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষ অভিযোগ মীমাংসার নামে আমাদের ডেকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে চেয়েছে, যা আমরা গ্রহণ করিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসমত জাহান ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, গত ৪ জানুয়ারি জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেন। সে সময় এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিধিবিধান হালনাগাদ করার জন্য তিন মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।