চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। দলীয় সভা-সমাবেশ, প্রার্থী বিতর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। তবে এসব আলোচনার আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে—এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাররা হতে পারেন সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক ফ্যাক্টর।
মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, সীতাকুণ্ডের গ্রাম ও পৌর এলাকায় ভোটার তালিকায় নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেক কেন্দ্রে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষদের প্রায় সমান, কোথাও আবার বেশি। আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও নারীরা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকেছেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসার পরিচালনা, দ্রব্যমূল্যের চাপ, নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ—এসব বিষয় নারীদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা দলীয় স্লোগানের চেয়ে প্রার্থীর আচরণ, অতীত ভূমিকা ও সামাজিক অবস্থান নারীদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৪ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন নারী ভোটাররা। দুই দলই নারীদের ভোট নিজেদের বাক্সে টানতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়। বিএনপির নারী নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লায় বৈঠক করে নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনছেন।
তবে মাঠের বাস্তবতায় এই ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এলাকাভিত্তিক নারী কর্মীদের নিয়ে সংগঠিত কাঠামো গড়ে তুলে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। ছোট ছোট দল করে তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে এবং ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যক্তিগত ও নিয়মিত যোগাযোগ নারীদের আস্থা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ নারীরা শুধু প্রচারণার ভাষা নয়, বরং সম্মান, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ভোটের সিদ্ধান্ত নেন। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম–৪ আসনে এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে পোস্টার, মাইক বা বড় সমাবেশের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে নারী ভোটারদের মন জয়। নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে এই নারী ভোটাররাই নির্ধারণ করে দিতে পারেন, শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবে ভোটের মাঠে।