দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দাম কমানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম আগের চেয়ে আরও ৬ হাজার ৫৯৩ টাকা কমেছে। আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-এর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও শনিবার তা বড় পতনের মুখে পড়ে ৪,৮৯৩ ডলারে নেমে আসে। রবিবার আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ থাকলেও আজ সকালে সেই প্রভাব দেশের বাজারে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
সোমবার সকালের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮১ টাকা। অথচ গতকাল রবিবার রাতেও এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৫০১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৮৯ টাকায় নেমে এসেছে।
স্বর্ণের দামে ব্যাপক পরিবর্তন আসলেও রুপার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুপার দাম রবিবার রাতের তুলনায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, প্রতিটি গহনা বিক্রির সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং নূন্যতম মজুরি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের আকাশছোঁয়া দাম ও ঘন ঘন পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ক্রেতাদের সবসময় হলমার্ক করা স্বর্ণ যাচাই করে কেনার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।