জামিনে মুক্ত ইরানি বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানি

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ইরানি বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানি। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণকে শনিবার দুই বিলিয়ন তুমান (প্রায় ১২ হাজার ৬০০ ডলার) জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে তার আইনজীবী আমির মুসাখানি এএফপিকে জানিয়েছেন। মুক্তির সময় তার মোবাইল ফোনসহ সব ব্যক্তিগত সামগ্রীও ফেরত দেওয়া হয়।

গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারদিস এলাকায় সোলতানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে তেহরানের উপকণ্ঠে কারাজের একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। ইরানের বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে তৎপরতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ফারসি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দাবি করে, সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইরানের বিচার বিভাগ এই দাবি নাকচ করে জানায়, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই।

নরওয়ে-ভিত্তিক কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও প্রথমে দাবি করেছিল, সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরে সংগঠনটি জানায়, পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনাসহ দেশটির গণমাধ্যমও সোলতানির জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, আন্দোলন প্রথমে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংস রূপ নেয়। সরকার এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। তেহরানের মতে, বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি এবং আরও হাজারো মৃত্যুর খবর তারা যাচাই করছে। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করেছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই মামলায় আপাতত স্বস্তি ফিরলেও, ইরানে বিক্ষোভ দমন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনো কাটেনি।