রাবিতে আলী রীয়াজের সভা

হঠাৎমাইকে ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করলেন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের’ নাম ঘোষণা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। এসময় তিনি সভায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষক বক্তব্য রাখায় এবং উপস্থিত থাকায় এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় আম্মার বলেন, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসাইয়া গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

এরপর আম্মার তার বক্তব্যে বলেন, এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা জুলাইয়ে নীরব ছিল। এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা আমাদের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন ন্যারেটিভ উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছে।

পরে তিনি তার হাতে থাকা কাগজ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধীতাকারী কয়েকজন শিক্ষকের নাম প্রকাশ করতে চান। এ সময় সঞ্চালক মঞ্চ থেকে তাকে নিষেধ করেন। তবে আম্মার না থেমে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারসহ কয়েকজন শিক্ষকের নাম ঘোষণা করতে থাকেন। একপর্যায়ে সঞ্চালক চেয়ার থেকে উঠে এসে আম্মারকে থামার জন্য অনুরোধ করে বলেন, আম্মার অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে।’

পরে আম্মার প্রতি উত্তরে বলেন, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসাইয়া গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে। নাহলে জুলাই আহত ও শহীদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যাইতে হবে।

পরে উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব চেয়ার ছেড়ে এসে আম্মারকে থামান এবং অনুষ্ঠান শেষে তার কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলেন। উপাচার্যের আশ্বাসে অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নাম প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান আম্মার।

সংবাদ সম্মেলনে ১৬১ শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে কর্মসূচির ঘোষণা করে সালাহউদ্দিন আম্মার। ওই মঞ্চেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি ওই ১৬১ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন এবং জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে তাদের বিভিন্ন ভূমিকার অভিযোগ তুলেন। এ ছাড়া আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করবে অন্যথায় সভার বাইরে অবস্থান নেওয়ার কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।

আম্মারের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকার প্রমুখ।