প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কাছে অভিযোগ করেন ঢাকা-৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্ট মো. মাহবুবুর রহমান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই লিখিত অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকার গেন্ডারিয়া থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদ মসজিদের পশ্চিম পাশে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন হুমকি-ধমকি দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা প্রচারণায় ব্যবহৃত রিকশাচালককে আটক করে রাখেন। পরবর্তীতে প্রচারণা না করার শর্তে তারা রিকশাচালককে ছেড়ে দেন। একই স্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা হেনস্থার শিকার হন। এ সময় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা জামায়াতের নারী কর্মীদের চোর সম্বোধন করে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং প্রচারণায় না আসতে হুমধি-ধমকি দেন।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, এই ঘটনা নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি প্রতিপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা না চালিয়ে কিংবা প্রচারণায় বাধা না দিয়ে আপনাদের নারী কর্মীদেরও প্রচারণা আসতে বলেন। আমরা, আপানাদের নারী কর্মীদের প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করব না। বরং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব। জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা মা-বোনদের শ্রদ্ধা করে এবং করতে জানে।
তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের জন্য সর্বপ্রথম সকল প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সেটি নিশ্চিত করতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুমযোগ-সুবিধা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশজামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি ও ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসান বলেন, প্রতিদিন আমাদের প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা বাধা প্রদান করে আসছে। এটি শুধু নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন নয় বরং এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেও আঘাত। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন ব্যতীত গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচন করা যায় না। জাতির বহুল প্রতিক্ষীত নির্বাচনে যারা প্রতিপক্ষের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। তারা যেনতেন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায়। জনগণ এদেশে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেবে না।
তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।