ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ আসনের জনগণের মুখোমুখি হয়ে উন্নয়ন, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণমুখী কাজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পাবনা সদর আসনের চার প্রার্থী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাবনা শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্ত্বরে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) আয়োজনে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে এ অঙ্গীকার করেন তারা।
সুজন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মতিন খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হুসাইন, বিএনপি মনোনীত এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এবি পার্টির আব্দুল মজিদ মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাজমুল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে সদর আসনের জনগণ তাদের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরে প্রার্থীদের নানা জিজ্ঞাসা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রার্থীরা বক্তব্যে তাদের রাজনৈতিক এলাকা নিয়ে ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাজমুল হোসাইন বলেন, টাকার অভাবে শিক্ষাগ্রহণ থেকে ছিটকে পড়েন অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও নাজুক। ঢাকার সাথে এই জনপদের যোগাযোগ সমৃদ্ধ করতে আরিচা-কাজিরহাট-দৌলতদিয়া ওয়াই টাইপ সেতু প্রয়োজন। কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে এ অঞ্চলের কৃষকরা বঞ্চিত৷ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। আমরা বিজয়ী হলে এসব বিষয়ে ইতিবাচক কাজ করব। এছাড়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায়ও কাজ করব।
জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হুসাইন বলেন, ৫৪ বছরে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগোতে পারেনি। পূর্বে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর ঘাড়েও ৭৯ হাজার টাকা বৈদেশিক ঋণ। ৩ কোটি শিক্ষিত বেকারের জন্ম হয়েছে। আমরা এসব সমস্যা নিরসনে কাজ করব। যুবকদের কর্মসংস্থান গড়ব।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও মাদক রোধ করা হবে। হালাল ব্যবসার বিস্তার ঘটানো হবে। এজন্য প্রয়োজনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। জন্ম থেকে ৫ বছর অবধি শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্রের, কিন্তু সেটি রাষ্ট্র নেয় না। আমরা এটি নেবো। দেশ ও সমাজ মাদক ও চাঁদাবাজিতে চেয়ে গেছে। এই অন্যায় রাস্তা থেকে তাদের সরিয়ে ভালো কর্মসংস্থানে যুক্ত করে সমাজে অপরাধ লাঘবে কাজ করব। পাবনা শহরে বৃষ্টিতে বাসা বাড়ি তলিয়ে যায়। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আব্দুল হামিদ সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ সহ গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে।
ঢাকার সাথে যোগাযোগ সহজে পাবনা থেকে উল্লাপাড়া হয়ে রেল সংযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে এ প্রার্থী বলেন, আরিচা-কাজিরহাট সেতু নির্মাণ ও শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। পাবনায় ভালো শিশু হাসপাতাল নেই, ফলে শিশুরা ভালো চিকিৎসা পায় না। এটি নিয়েও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ইছামতী খনন করে এর পাড়গুলোকে দৃষ্টি নন্দন করা হবে। এসময় শিশু পার্ক ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থা নির্মাণের পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
এবি পার্টির আব্দুল মজিদ মোল্লা বলেন, অফিস আদালতে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। বাজার ব্যবস্থা সিন্ডিকেটের কাছে পরাস্ত। আমি বিজয়ী হলে কালোবাজারি ও ঘুষখোরদের এসব অনৈতিক কাজ বন্ধ করা হবে। এছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ থাকবে।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পাবনায় আইসিটি পার্ক গড়ে তোলা হবে জানিয়ে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। এটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা নিষ্ঠাবান থাকবো। জেলায় সড়ক নিয়ে দুর্ভোগ পুরনো। শহরের আব্দুল হামিদ সড়ক, আতাইকুলা সড়ক ও গাছপাড়া সহ বেশকিছু সড়ক সরু ও বেহাল। এসব সড়ককে প্রশস্ত করা সহ জেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা রেখেছি। এছাড়া আরিচা-কাজিরহাট ফেরী ঘাটকে খাসচরে স্থানান্তর ও শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে কৃষি উন্নয়নে পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা গড়ার পাশাপাশি কৃষিতে শিক্ষা ও দক্ষতার প্রসার ঘটাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কেলিকো কটন মিল ও ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সহ অন্যান্য মিল ও প্রতিষ্ঠান চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া জেলায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন ও জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ সহ স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে কাজ করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন বৃদ্ধি সহ নানা কাজে জ্ঞান চর্চায় পাঠাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।